
চোখের নিচে ডার্ক সার্কেলকে আমরা অনেক সময় শুধু ঘুমের ঘাটতি বা মানসিক চাপের ফল হিসেবে দেখি। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এর সঙ্গে পুষ্টির সম্পর্ক গভীর ও বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
রিসার্চ পেপারগুলোতে দেখা গেছে, আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া ডার্ক সার্কেলের অন্যতম বড় কারণ। রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হয়, ফলে চোখের নিচের ত্বক আরও পাতলা ও গাঢ় দেখায়। একইভাবে ভিটামিন B12 ও ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতিতে রক্তকণিকার কার্যকারিতা কমে গিয়ে চোখের নিচে কালচে ছাপ স্পষ্ট হয়।
আরও পড়ুন:
ভিটামিন C-এর ভূমিকা এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গবেষণায় প্রমাণিত, ভিটামিন C কোলাজেন সিন্থেসিসে সহায়তা করে। কোলাজেন কমে গেলে চোখের নিচের ত্বক ঢিলে ও স্বচ্ছ হয়ে পড়ে, যার নিচে থাকা রক্তনালিগুলো গাঢ় রঙে দৃশ্যমান হয়। পাশাপাশি ভিটামিন K-এর অভাব চোখের নিচে রক্ত জমাট ও হাইপারপিগমেন্টেশনের ঝুঁকি বাড়ায়।
ডিহাইড্রেশনও একটি নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগত কারণ। পর্যাপ্ত পানি না খেলে ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে যায়, ফলে ডার্ক সার্কেল আরও প্রকট হয়। এছাড়া অতিরিক্ত লবণ ও প্রসেসড খাবার চোখের চারপাশে ফ্লুইড রিটেনশন বাড়িয়ে ফোলাভাব ও কালচে ভাব সৃষ্টি করে যা গবেষণায় “periorbital edema” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
গবেষণাভিত্তিক এই তথ্যগুলো স্পষ্ট করে যে, চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল কেবল একটি কসমেটিক সমস্যা নয়; এটি অনেক সময় শরীরের ভেতরের পুষ্টিগত ঘাটতির দৃশ্যমান সংকেত। তাই কনসিলার বা ক্রিমের পাশাপাশি সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট, পানি গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনাল অ্যাসেসমেন্ট এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিই ডার্ক সার্কেল মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই পথ।








