
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং তেলের অপচয় রোধে যানবাহনভিত্তিক জ্বালানি তেল সরবরাহের নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এখন থেকে পাম্পগুলো থেকে ঢালাওভাবে ইচ্ছামতো তেল নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত সীমার বাইরে কোনো যানবাহন জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবে না।
কোন যানবাহনে কতটুকু তেল?
আরও পড়ুন:
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যানবাহনের ধরন অনুযায়ী তেলের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হবে। প্রাথমিক নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সীমাগুলো হলো:
- মোটরসাইকেল: একবারে সর্বোচ্চ সর্বোচ্চ ২ লিটার (পেট্রোল/অকটেন)।
- প্রাইভেটকার ও জিপ: একবারে সর্বোচ্চ সর্বোচ্চ ১০ লিটার।
- পিকআপ ও মাইক্রোবাস: নির্ধারিত সীমার মধ্যে তেল সরবরাহ করা হবে ২৫ থেকে ৭০ লিটার।
- ভারী যানবাহন (বাস/ট্রাক): রুটের দূরত্ব বিবেচনায় জ্বালানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং মজুদ ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
আরও পড়ুন:
কেন এই সিদ্ধান্ত?
জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় এবং স্থানীয় বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধ করতেই এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে অবৈধভাবে তেল মজুদের অভিযোগ আসায় পাম্পগুলোকে কড়া নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
পাম্প মালিকদের প্রতি নির্দেশনা
নতুন এই নিয়ম কার্যকর করতে দেশের সকল ফিলিং স্টেশনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে:
- নির্ধারিত পরিমাণের বেশি তেল কোনো যানবাহনকে দেওয়া যাবে না।
- ড্রাম বা কন্টেইনারে করে তেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- প্রতিদিনের বিক্রয় ও মজুদের তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
আরও পড়ুন:
জনমনে প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
সরকারের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ যানবাহন চালকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে একে দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, দূরপাল্লার চালকরা কিছুটা উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তবে কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে, এই ব্যবস্থা সাময়িক এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হবে।






