
আন্তর্জাতিক খাদ্যশস্য বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে চালের রপ্তানি মূল্যে সামান্য হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে, যা আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে জলবায়ুগত ঝুঁকি—বিশেষ করে এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব—আগামী মাসগুলোতে গম উৎপাদনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন:
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা Food and Agriculture Organization (FAO)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে বৈশ্বিক চালের মূল্য সূচক প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। এর পেছনে মৌসুমি উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানি চাহিদার দুর্বলতা এবং মুদ্রার বিনিময় হারের প্রভাব কাজ করেছে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসেও দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সালে সামগ্রিক কৃষিপণ্যের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমতে পারে, কারণ সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রয়েছে।
আরও পড়ুন:
তবে চালের বাজারে স্বস্তি থাকলেও গম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। FAO জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে খরা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি বড় উৎপাদক দেশে গমের ফলনের সম্ভাবনা দুর্বল হয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সম্ভাব্য এল নিনো পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও খরার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যা গমসহ অন্যান্য খাদ্যশস্যের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতিতে নতুন অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
এদিকে, বৈশ্বিক খাদ্য বাজারে সামগ্রিকভাবে সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ভবিষ্যতের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চালের দামে স্বস্তি থাকলেও গমের বাজারে সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় আমদানিকারক দেশগুলোকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।








