
বাংলাদেশে যখন নববর্ষসহ বিভিন্ন উৎসবকে ঘিরে রঙিন আয়োজন চলছে, ঠিক সেই সময় বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে বাড়ছে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার শঙ্কা। একদিকে সাংস্কৃতিক উৎসব মানুষের মাঝে আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংঘাত, মূল্যস্ফীতি ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ অংশ নিচ্ছে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে। এই উৎসব দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে—বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসা, পোশাক ও খাদ্য খাতে বিক্রি বাড়ে।
তবে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্যিক টানাপোড়েন বিশ্ব অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম ওঠানামা করছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
আরও পড়ুন:
বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) তাদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা ধীর হতে পারে। উচ্চ সুদের হার, মূল্যস্ফীতি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যাগুলো এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখার দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
আরও পড়ুন:
সব মিলিয়ে, দেশের ভেতরে উৎসবের আনন্দ থাকলেও বৈশ্বিক বাস্তবতা ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। তাই এই দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যেই ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।






