
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিম উম্মাহর ওপর চলমান নির্যাতন এবং বাংলাদেশের সীমান্তে অব্যাহতভাবে নিরপরাধ নাগরিকদের গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে খেলাফত মজলিস। আজ রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট সংলগ্ন এলাকায় এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে সংগঠনটি। জুমার নামাজের পর হাজার হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে এই কর্মসূচিটি এক বিশাল গণজমায়েতে পরিণত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন,
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক একের পর এক বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে এই ধরনের হত্যাকাণ্ড এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের নাগরিককে এভাবে সীমান্তে হত্যা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকার সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগে ব্যর্থ হচ্ছে।”
একইসাথে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের ওপর চলমান অমানবিক নির্যাতন, বসতবাড়ি দখল এবং নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানানো হয়। খেলাফত মজলিসের নেতারা দাবি করেন, মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদই পারে এই জুলুম থামাতে।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও হুঁশিয়ারি:
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা বলেন, সীমান্তে লাশের মিছিল দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে আমাদের নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো হচ্ছে। এই অন্যায় আর মুখ বুজে সহ্য করা হবে না। তারা সরকারের উদ্দেশে বলেন, “দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সীমান্ত হত্যা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিন, অন্যথায় জনগণই রাজপথে এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে।”
বক্তারা আরও যোগ করেন, কেবল সীমান্ত নয়, দেশের অভ্যন্তরেও ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসলাম ও দেশের স্বার্থবিরোধী যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে খেলাফত মজলিস আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।
দাবিনামা:
সমাবেশ থেকে খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়:
সীমান্ত হত্যার বিচার: প্রতিটি সীমান্ত হত্যার আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং বিএসএফ-এর দায়ী সদস্যদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
কূটনৈতিক তৎপরতা: সীমান্ত সংঘাত নিরসনে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা।
মুসলিম নির্যাতন বন্ধ: জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে মুসলিম দেশগুলোতে চলমান গণহত্যা ও নির্যাতন বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
জাতীয় ঐক্য: দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান।
মিছিল ও সমাপ্তি: সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড় ও নাইটিঙ্গেল মোড় প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের সময় অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “সীমান্তে হত্যা কেন? জবাব চাই, জবাব দাও”, “মুসলিম নির্যাতন বন্ধ করো, করতে হবে” ইত্যাদি স্লোগান শোনা যায়। মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
সমাপনী বক্তব্যে ঘোষণা করা হয় যে, দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করবে খেলাফত মজলিস। সংগঠনের জেলা ও মহানগর শাখাগুলোকেও এই ইস্যুতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।






