
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় দমকা হাওয়া, কালবৈশাখী ধরনের ঝড় এবং বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
রোববার প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং দেশের ওপর সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। এর ফলে আকাশে বজ্রমেঘের সৃষ্টি হচ্ছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রপাতের ঘটনাও বাড়ছে।
এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রমেঘের সক্রিয়তা বেশি থাকায় সেখানে বজ্রপাতের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাতের মধ্যে আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এ কারণে খোলা মাঠ, নদী বা জলাশয়ের আশপাশে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে দেশে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তারতম্যের কারণে কালবৈশাখী ধরনের ঝড়ের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। দিনের গরম আবহাওয়া এবং সন্ধ্যার পর আর্দ্র বাতাসের সংমিশ্রণে বজ্রঝড় সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে হঠাৎ করেই ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের কোথাও কোথাও মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও বৃষ্টিপাত বাড়লে তাপমাত্রা সাময়িকভাবে কমে আসতে পারে। তবে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।
কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বৃষ্টিপাত বোরো ধান কাটার মৌসুমে কিছু এলাকায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। মাঠে থাকা পাকা ধান দ্রুত ঘরে তোলার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাতের সময় কৃষকদের খোলা মাঠে কাজ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন, বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে দাঁড়ানো কিংবা বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের নিরাপদ স্থানে রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রাডার চিত্রেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘন মেঘমালার উপস্থিতি দেখা গেছে। আবহাওয়ার এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে বজ্রপাতের সংখ্যা ও তীব্রতা বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্ম মৌসুমে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ফলে আগাম সতর্কতা ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর নাগরিকদের নিয়মিত আবহাওয়ার আপডেট অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাচল এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।






