
রমজান মাসের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদর বা লাইলাতুল কদর সন্ধান করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। নিচে এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ হাদিস এবং বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:
শবে কদর সন্ধানের নির্দেশনা (হাদিস)
আরও পড়ুন:
হাদিস অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দিষ্ট করে কোনো একটি রাতকে শবে কদর হিসেবে ঘোষণা করেননি, বরং শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে এটি খুঁজতে বলেছেন।
সহিহ বুখারি: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“তোমরা রমজানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদর সন্ধান করো।” (বুখারি: ২০১৭)
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী করিম (সা.) রমজানের শেষ দশ দিনে ইতিকাফ করতেন এবং বলতেন, “তোমরা রমজানের শেষ দশকে শবে কদর তালাশ করো।” (বুখারি ও মুসলিম)
আরও পড়ুন:
কোন রাতগুলো বেজোড় রাত?
বেজোড় রাতগুলো হলো:
- ২১ শে রমজান (২০ শে রমজানের দিবাগত রাত)
- ২৩ শে রমজান (২২ শে রমজানের দিবাগত রাত)
- ২৫ শে রমজান (২৪ শে রমজানের দিবাগত রাত)
- ২৭ শে রমজান (২৬ শে রমজানের দিবাগত রাত)
- ২৯ শে রমজান (২৮ শে রমজানের দিবাগত রাত)
কেন এই রাতটি এত গুরুত্বপূর্ণ?
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-কদরে এই রাতের মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। এর বিশেষ কিছু দিক হলো:
হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ: এই এক রাতের ইবাদত হাজার মাস (প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাস) ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াব বয়ে আনে।
গুনাহ মাফ: হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় এই রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
এই মহিমান্বিত রাতেই লওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে পবিত্র আল-কুরআন অবতীর্ণ হয়।
শবে কদরের বিশেষ দোয়া:
হযরত আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি জানতে পারি কোন রাতটি শবে কদর, তবে আমি কী বলব?”
রাসুল (সা.) তাকে এই দোয়াটি পড়তে বলেন:
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
(আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি)
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।
করণীয় ও আমল:
নফল নামাজ: তাহাজ্জুদ ও সালাতুল তাসবিহ পড়া যেতে পারে।
কুরআন তেলাওয়াত: অর্থসহ কুরআন পাঠ ও জিকির করা।
ইস্তিগফার: অধিক পরিমাণে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
দান-সদকা: সামর্থ্য অনুযায়ী দান করা।
শবে কদরের ফজিলত অর্জনের জন্য রমজানের শেষ ১০ রাতই সমান গুরুত্ব দিয়ে ইবাদত করা সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।








