
রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আরিফ সাহেব। বেতন পান মাস শেষে যা, তা দিয়ে সংসার চালানোই এখন এক কঠিন অংকের সমাধান। সামনে ঈদ, কিন্তু এবার আরিফ সাহেবের চোখে আনন্দের চেয়ে দুশ্চিন্তার ভাঁজই বেশি। গত কয়েক বছরে বাজারের দ্রব্যমূল্য যে হারে বেড়েছে, তার তুলনায় তার বেতন বাড়েনি এক আনাও।
আরও পড়ুন:
ইচ্ছে আর সাধ্যের ব্যবধান
মার্কেটে গিয়ে পাঞ্জাবির গায়ে লাগানো প্রাইস ট্যাগ দেখে চমকে উঠলেন তিনি। যে পাঞ্জাবি গত বছর ছিল ১,৫০০ টাকা, এবার তা ৩,০০০ এর নিচে নেই। পাশে দাঁড়ানো তার আট বছরের ছেলে আবির একটি ঝকঝকে রঙের পোশাক পছন্দ করেছে। দাম শুনে আরিফ সাহেবের কপালে ঘাম জমে। ছেলের মুখের হাসির দিকে চেয়ে কেনাকাটা তো করতেই হবে, কিন্তু তাতে যে মাসের বাকি দিনগুলোর চাল-ডাল কেনার বাজেটে টান পড়বে, তা ভাবতেই মনটা দমে যাচ্ছে।
শখের বিসর্জন যেখানে নিয়ম
মধ্যবিত্ত পরিবারের এই চিত্র এখন দেশের প্রতিটি কোণায়। নিজের জন্য নতুন একজোড়া জুতো বা একটা শার্ট কেনার শখ আরিফ সাহেব গত তিন বছর আগেই বিসর্জন দিয়েছেন। তার স্ত্রী সুমি বেগম এবার আগেই বলে দিয়েছেন, “আমার জন্য কিছু লাগবে না, বাচ্চাদের আর তোমার জন্য কিছু একটা কেন।” অথচ আরিফ সাহেব জানেন, সুমি তার পুরোনো শাড়িটা দিয়েই এবারের ঈদ পার করে দেবেন।
বিশ্ব ও দেশীয় পরিস্থিতির প্রভাব
বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি আর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে —সবই এখন আকাশছোঁয়া। ফলে উৎসবের আনন্দ যেন এখন এক অসম লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। বাজারে ভিড় থাকলেও মানুষের হাতে আগের মতো খরচ করার সামর্থ্য নেই।
মধ্যবিত্তের কাছে ঈদ মানে এখন আর কেবল আনন্দ নয়; ঈদ মানে এক বিশাল বাজেটের চাপ। যে মধ্যবিত্ত সমাজ না পারে লাইনে দাঁড়িয়ে সাহায্য নিতে, না পারে কাউকে মুখ ফুটে অভাবের কথা বলতে, তাদের জন্য এবারের ঈদ যেন এক নীরব যুদ্ধের নাম। তবুও দিনশেষে পরিবার আর প্রিয়জনের মুখে একটু হাসি ফোটানোর চেষ্টাই তাদের সার্থকতা।
আমি কি এই প্রতিবেদনের জন্য একটি মানানসই ছবি তৈরির প্রম্পট বা কোনো বিশেষ সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাপশন লিখে দেব?







