
বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের কারণে পেট্রোল, অকটেন ও এলপিজির সরবরাহে তীব্র টান পড়েছে। অনেক পেট্রোল পাম্পে তেল ফুরিয়ে গেছে। গ্রাহকরা ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় দেশে প্যানিক বাইং শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন:
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুসারে, মজুত তেলের পরিমাণ এখনও স্বাভাবিক সরবরাহের জন্য যথেষ্ট। তবে অতিরিক্ত কেনাকাটা ও অবৈধ মজুতের কারণে পাম্পগুলোতে তেলের চাপ বেড়েছে। অনেক জায়গায় পেট্রোল ও অকটেন একেবারেই মিলছে না। এলপিজি সিলিন্ডারের দামও সম্প্রতি এক লাফে বেড়েছে।
সরকার এই সংকট মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা তাদের সরকারি গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দকৃত জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম নেবেন। এছাড়া সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান ও আকাশযান ক্রয় শতভাগ কমানো হয়েছে। সরকারি অফিসে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহারও ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদবিহীন ঋণ সুবিধা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি জ্বালানি সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেছেন, “দেশের স্বার্থে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। এতে জ্বালানি আমদানির চাপ কমবে।”
এদিকে অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান জোরদার করেছে প্রশাসন। মার্চ মাসে ৬৪ জেলায় ৩ হাজার ৫৫৯টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। একদিনেই (৩০ মার্চ) ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার তেল উদ্ধার হয়। এসব অভিযানে ১ হাজার ২৪৪টি মামলা দায়ের এবং কয়েকজনকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি অব্যাহত রয়েছে। এপ্রিল মাসে কোনো বড় সংকট হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জনগণকে অতিরিক্ত কেনাকাটি না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকে বলছেন, “১৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের এই সাশ্রয়ী পদক্ষেপ ইতিবাচক, তবে আমদানি বাড়ানো ও মজুতকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারি দরকার।
আরও পড়ুন:
সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জনজীবন সহজ হবে বলে আশা করা যায়।
(সংবাদ সূত্র: জ্বালানি বিভাগ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন)






