
নিজস্ব প্রতিবেদক,
অবশেষে অবসান হলো অপেক্ষার। বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) দেশজুড়ে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আমেজে উদযাপিত হবে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ।
গত সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে চাঁদ দেখার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার পর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে।
১৯ মে থেকে শুরু জিলহজ মাস
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত সোমবার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে হিজরি ১৪৪৭ সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায়, ১৯ মে (মঙ্গলবার) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিলহজ মাস গণনা শুরু হয়েছে। ইসলাম ধর্মে এই মাসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই মাসেই মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ফরজ ইবাদত ‘হজ’ অনুষ্ঠিত হয় এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা হয়।
চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে এই জিলহজ মাসটি আগামী ১৬ জুন (মঙ্গলবার) পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এরপর নতুন হিজরি বর্ষ তথা মহররম মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে পরবর্তী মাস ও নতুন হিজরি বছরের সূচনা হবে।
এক নজরে জিলহজ মাসের গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সুবিধার্থে এবং ইবাদতের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য জিলহজ মাসের প্রধান প্রধান দিনগুলোর একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| জিলহজ মাসের বিশেষ দিন | ইংরেজি তারিখ ও বার | তাৎপর্য |
| ১ জিলহজ | ১৯ মে ২০২৬, মঙ্গলবার | পবিত্র জিলহজ মাসের সূচনা ও প্রথম দশক শুরু। |
| ৯ জিলহজ | ২৭ মে ২০২৬, বুধবার | পবিত্র আরাফাহর দিন (হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা ও নফল রোজা)। |
| ১০ জিলহজ | ২৮ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার | পবিত্র ঈদুল আজহা (কোরবানির ঈদ)। |
তাৎপর্যপূর্ণ আরাফাহর দিন ও নফল রোজা
আগামী ২৭ মে (বুধবার) পবিত্র জিলহজ মাসের ৯ তারিখ তথা ‘আরাফাহর দিন’ হিসেবে পালিত হবে। এই দিনটি বিশ্ব মুসলিমের জন্য অত্যন্ত পুণ্যময়। সৌদি আরবের মক্কা নগরীর আরাফাতের ময়দানে এই দিনে হজের মূল খুতবা ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের যেসব মুসলমান এই বছর হজে যেতে পারেননি, তাদের জন্য আরাফাহর দিনে রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আরাফাহর দিনের রোজার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা বান্দার পূর্বের এক বছর এবং পরের এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেন। ফলে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই দিনটিতে নফল রোজা এবং বিশেষ ইবাদত-বন্দেগির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা ও কোরবানির প্রস্তুতি
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। সেই হিসেবে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশে পবিত্র কোরবানি ঈদ উদযাপিত হবে। এই উৎসবে সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে উট, গরু, মহিষ, দুম্বা বা ছাগল কোরবানি করে থাকেন।
ঈদের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার সাথে সাথেই দেশজুড়ে শুরু হয়ে গেছে কোরবানির জোর প্রস্তুতি। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটগুলো জমতে শুরু করবে দ্রুতই। একই সাথে কামারদের ব্যস্ততা, মসলার বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং পশুর চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন দপ্তর এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
শেষ কথা ও সরকারি ছুটি
২৮ মে বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহা হওয়ায় সরকারি চাকুরিজীবী ও সাধারণ মানুষের জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে আসছে এই ঈদ। কারণ, বৃহস্পতিবার ঈদের মূল ছুটির পর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা একটি বড় ছুটি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই এই সুযোগে পরিবারের সাথে ঈদ কাটাতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির পক্ষ থেকে দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার আগাম শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে এবং ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপনের আহ্বান করা হয়েছে।






