
ইউএস-ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইরান স্ট্রেইট অফ হরমুজ ও পারস্য উপসাগরে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদন ও ছবি গ্যালারি অনুসারে, গত দুই সপ্তাহে অন্তত ২২টি সিভিলিয়ান জাহাজ (ট্যাঙ্কার, কনটেইনার ও কার্গো) আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘মেয়ুরি নারি’ (Mayuree Naree) স্ট্রেইট অফ হরমুজে প্রজেক্টাইল হামলায় আগুন ধরে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
আরও পড়ুন:
রয়টার্সের ফটো গ্যালারিতে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, জাহাজগুলোর হাল অংশে আগুন ও ধোঁয়া উঠছে, ক্রুরা লাইফবোটে উঠছে। ইরাকি জলসীমায় দুটি জ্বালানি ট্যাঙ্কার ‘জেফাইরোস’ (Zefyros) ও ‘সেফসিয়া ভিষ্ণু’ (Safesea Vishnu)-এ ইরানি বিস্ফোরক-বোঝাই নৌকা (unmanned boats) হামলা করে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে একজন ক্রু নিহত হয়েছে। আগুন এখনও জ্বলছে বলে ইরাকি পোর্ট অথরিটি জানিয়েছে।
মেয়ুরি নারির ঘটনা:
আরও পড়ুন:
১১ মার্চ স্ট্রেইট অফ হরমুজে ওমানের ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে ‘মেয়ুরি নারি’ দুটি অজানা প্রজেক্টাইলে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায়। জাহাজটি কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। থাইল্যান্ডের প্রিশাস শিপিং কোম্পানি জানায়, ২০ জন ক্রু ওমানে নিরাপদে পৌঁছেছে, তবে তিনজন ইঞ্জিন রুমে আটকে পড়ে নিখোঁজ। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) তাসনিম নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে দাবি করেছে, “ইরানি ফাইটাররা জাহাজটিতে গুলি চালিয়েছে।”
অন্যান্য আক্রান্ত জাহাজ:
ইরাকি জলসীমায় ‘জেফাইরোস’ ও ‘সেফসিয়া ভিষ্ণু’ ছাড়াও ইউএই-এর কাছে ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ (ONE Majesty), ‘স্টার গুইনেথ’ (Star Gwyneth) ও অন্য একটি কনটেইনার জাহাজ প্রজেক্টাইলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোনো ক্ষেত্রেই বড় ধরনের লিক বা ডুবিয়ে দেওয়া হয়নি, তবে শিপিং ট্র্যাফিক প্রায় থেমে গেছে।
ইরানের অবস্থান ও প্রভাব:
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতাবা খামেনি বলেছেন, “হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হবে যতক্ষণ না ইউএস-ইসরায়েল আক্রমণ বন্ধ হয়।” IRGC হুঁশিয়ারি দিয়েছে— হরমুজ দিয়ে এক ফোঁটা তেলও যাবে না। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি এই প্রণালী দিয়ে যায়। ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরাকের তেল পোর্ট বন্ধ, শতাধিক জাহাজ অ্যাঙ্কর করে অপেক্ষা করছে। ইউএস নেভি এখনো এসকর্ট দিতে রাজি হয়নি।
আরও পড়ুন:
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়েছে এবং ঘটনার তথ্য জানতে চেয়েছে।
রয়টার্সের ফটো গ্যালারিতে প্রকাশিত ছবিগুলোতে ধোঁয়ায় ঢাকা জাহাজ, আগুনের লেলিহান শিখা ও ক্রু উদ্ধারের দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করেছে। পরিস্থিতি আরও গুরুতর হলে তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
(সূত্র: রয়টার্স, ১১-১৩ মার্চ ২০২৬ প্রতিবেদন ও ফটো গ্যালারি)







