
রাজধানী ঢাকার আকাশ এখন বিষাক্ত। প্রতিদিনের বায়ুমান নাগরিকদের শ্বাস নেওয়াকে কষ্টকর করে তুলছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা IQAir-এর সর্বশেষ রিয়েল-টাইম তথ্য অনুসারে, ১৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে (সকাল ৫:০১) ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ১০২। এটি ‘সংবেদনশীল গ্রুপের জন্য অস্বাস্থ্যকর’ (Unhealthy for Sensitive Groups) শ্রেণিতে পড়ে। প্রধান দূষক PM2.5 এর ঘনত্ব উচ্চ মাত্রায় রয়েছে, যা WHO-এর বার্ষিক নিরাপদ সীমা (৫ µg/m³) এর অনেক গুণ বেশি।
আরো পড়ুন:
মার্চের প্রথম সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ ছিল। ৫ মার্চ AQI ২৫৩ রেকর্ড হয়ে ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহরে পরিণত হয়। ৬ মার্চও ঢাকা শীর্ষ ১০-এর মধ্যে ছিল এবং AQI ২০০ ছাড়িয়ে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ (Very Unhealthy) থেকে ‘বিপজ্জনক’ (Hazardous) স্তরে পৌঁছায়। এমনকি ২০২৪ সালের গড় PM2.5 ছিল ৭৮ µg/m³ (AQI ১৬২), যা WHO গাইডলাইনের ১৫.৬ গুণ।
বায়ু দূষণের প্রধান কারণ কী?
ঢাকার বায়ু দূষণের উৎস বছরজুড়ে সক্রিয়:
- গৃহস্থালির জ্বালানি ও বর্জ্য পোড়ানো
- বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইটভাটা (দেশে ৭,০০০+ অবৈধ/অনিয়ন্ত্রিত)
- যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণকাজের ধুলো
- রাস্তার ধুলো ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত দূষণ (২৫% PM2.5)
শীতকালে তাপমাত্রার উল্টো স্তর (temperature inversion) দূষককে আটকে রাখে, ফলে দূষণ আরও বাড়ে। বর্ষাকাল (জুন থেকে) বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে কিছুটা উন্নতি হয়।
আরো পড়ুন:
শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে: হাসপাতালের তথ্য বলছে
বায়ু দূষণ সরাসরি শ্বাসতন্ত্রের রোগ বাড়াচ্ছে। জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NIDCH)-এর তথ্য অনুসারে, রোগী সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে:
- ২০২৫ সালে: ১.৯৫ লাখ
- ২০২৪ সালে: ১.৯২ লাখ
- ২০২৩ সালে: ১.৭৫ লাখ
হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, “ধুলো, যানবাহনের ধোঁয়া ও ইটভাটার নির্গমনের কারণে অ্যাজমা ও COPD (ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ)-এর রোগী বেড়েছে।” গত ৫ বছরে ICU-তে রোগীদের সংখ্যা ‘এক্সপোনেনশিয়ালি’ বেড়েছে। শিশু, বয়স্ক ও আগে থেকে শ্বাসকষ্টের রোগীদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। দূষণ ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমায়, হৃদরোগ বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করে।
আরো পড়ুন:
কী করবেন? প্রতিরোধের উপায়
- বাইরে বের হলে KN95/FFP2 মাস্ক ব্যবহার করুন।
- জানালা-দরজা বন্ধ রাখুন, এয়ার পিউরিফায়ার চালান।
- IQAir অ্যাপে রিয়েল-টাইম শিশু ও বয়স্কদের বাইরে বের না করুন যখন AQI ১০০-এর উপরে।
- সরকারের পক্ষ থেকে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, ইটভাটা বন্ধ ও নির্মাণকাজে ধুলো নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
ঢাকার বায়ু দূষণ শুধু আজকের সমস্যা নয়—এটি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করছে। সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ আরও বাড়বে। নিয়মিত AQI চেক করুন এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সতর্ক থাকুন।








