
নিজস্ব প্রতিবেদক | ৫ মার্চ, ২০২৬
ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে দাম আকাশচুম্বী হলেও, আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আলোচনার কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিতে অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য কমেছে। তবে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি।
আজকের বাজার পরিস্থিতি
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে আজ ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহের শুরুতে যা ৮০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, তা আজ কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে ৮১.৪০ ডলারের আশেপাশে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও সামান্য কমেছে।
উত্তেজনার মূল কারণ
সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক হামলার খবর এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচলে বাধার আশঙ্কায় তেলের বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। ইরান এই পথ বন্ধ করার হুমকি দেওয়ায় গত কয়েক দিনে তেলের দাম প্রায় ৯% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল।
দাম কমার নেপথ্যে আলোচনা
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউস এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার প্রাথমিক প্রচেষ্টার খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এছাড়া ওপেক প্লাস (OPEC+) দেশগুলোর তেল উৎপাদন বাড়ানোর আশ্বাসও দাম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ জর্জি লিওন বলেন,
“যদি হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আলোচনার খবরে আজ দাম কমলেও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আশঙ্কা এখনও রয়ে গেছে।”
সারসংক্ষেপ: তেলের বাজার এক নজরে
- ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude): বর্তমানে ব্যারেল প্রতি ৮১.৪০ ডলার।
- WTI ক্রুড: ব্যারেল প্রতি ৭৫.৭৪ ডলার (সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে)।
- প্রধান প্রভাবক: হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাত।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবহন খরচ বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।








