
বিআরটি প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি, স্থাপনাগুলো অকেজো পড়ে আছে — সরকারের কারিগরি কমিটির রিপোর্টের অপেক্ষায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
ঢাকা: দেশের প্রথম বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ এক যুগেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। গাজীপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০.৫ কিলোমিটারের এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি, কিন্তু নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৯৭ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও অনেক স্টেশন, লিফট, এসকেলেটর ও অন্যান্য স্থাপনা এখনও অকেজো এবং অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন:
২০১২ সালে অনুমোদিত এ প্রকল্পের মূল সমাপ্তির সময়সীমা ছিল ২০১৬ সাল। কিন্তু দফায় দফায় সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে প্রকল্পটি এখন ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু করার পরিকল্পনা স্থগিত করে দিয়েছে। কারণ, পুরোপুরি চালু করতে আরও সময় ও অর্থের প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান সরকারের মেয়াদে সম্ভব নয়। ফলে বাকি কাজ (ফ্লাইওভার ও কয়েকটি স্টেশনের সমাপ্তি) শেষ করে সড়কটি সাধারণ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিআরটি সেবা চালু করা হবে কি না, তা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারই চূড়ান্ত করবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের নকশা, ব্যয় বৃদ্ধি ও কারিগরি ত্রুটি নিয়ে তদন্তের জন্য বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হকের নেতৃত্বে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে — হয় ত্রুটি সংশোধন করে প্রকল্প চালু, নয়তো বিদ্যমান অবকাঠামো অন্যভাবে ব্যবহার। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান নির্মাণকাজের কারণে গাজীপুর-ঢাকা রুটে যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেক স্টেশনের স্থাপনা এখন বৃষ্টি-রোদে নষ্ট হচ্ছে, লিফট-এসকেলেটর অকেজো। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়ও কিছু স্থাপনায় ক্ষতি হয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে প্রতি ঘণ্টায় ২০-২৫ হাজার যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে তা এখনও দূরের স্বপ্ন।
ঢাকা বিআরটি কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, কিছু অংশে ফ্লাইওভার খুলে দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ যান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ বিআরটি সেবার জন্য বাস ক্রয়, স্টেশন সমাপ্তি ও অন্যান্য প্রস্তুতি এখনও অসম্পূর্ণ।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অদক্ষতা, নকশাগত ত্রুটি ও বারবার সময়-ব্যয় বৃদ্ধি জনগণের টাকার অপচয় ঘটিয়েছে। এখন কারিগরি কমিটির রিপোর্টই নির্ধারণ করবে এই ‘স্বপ্নের প্রকল্প’ কীভাবে শেষ পরিণতি পাবে।






