
জাতীয় সংসদে ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ বাতিল করে নতুন আইন পাস করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ পাসের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে, যা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদের অধিবেশনে কণ্ঠভোটে এ সংক্রান্ত বিলগুলো পাস হয়। বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
🔹 কেন বাতিল হলো পরিবার সুরক্ষা আইন?
২০০৯ সালে প্রণীত এই আইনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে নতুন সরকারের মতে, এই আইনটি “বৈষম্যমূলক” হওয়ায় তা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আইন বাতিলের ফলে এখন থেকে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা কোনো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা সুবিধা বাধ্যতামূলক থাকবে না।
আরও পড়ুন:
🔹 এসএসএফ আইনেও পরিবর্তন
এর পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (SSF) আইনের সংশোধনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধানও বাতিল করা হয়েছে।
এতে করে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ সুবিধা প্রদানের বিষয়টি নতুনভাবে নির্ধারিত হবে।
আরও পড়ুন:
🔹 ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা আইন’ কী বলছে?
সংসদে পাস হওয়া ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’-এ বলা হয়েছে:
- গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে
- নতুন কোনো মামলা দায়ের আইনত নিষিদ্ধ থাকবে
- অভিযুক্তরা অব্যাহতি বা খালাস পাবেন
- তবে গুরুতর অপরাধ, বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তযোগ্য থাকবে
এই আইনের মাধ্যমে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে।
আরও পড়ুন:
🔹 রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু আইন ও অধ্যাদেশ জারি করে, যেগুলো এখন সংসদে স্থায়ী আইনে রূপ দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব আইন পরিবর্তন দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।






