
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শিগগিরই শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, সরকারের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে যেতে পারেন এবং ওই সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা স্টেডিয়াম-এ প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ আয়োজিত চাকরি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে নতুন আশার বার্তা
ত্রাণমন্ত্রী দুলু বলেন, তিস্তা নদীকে ঘিরে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ, কৃষি সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নদীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, “সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চীন সফরে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুতই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলার কৃষি, যোগাযোগ ও পরিবেশব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, খরার সময় পানির সংকট এবং বর্ষায় আকস্মিক বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এই প্রকল্পের দিকে আশাবাদী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন।
এক কোটি কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানে ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। তিনি জানান, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুলু বলেন, “দেশের তরুণদের জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে সরকার বিভিন্ন খাতে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। শিল্প, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ধাপে ধাপে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এজন্য সরকার ও বেসরকারি খাত যৌথভাবে কাজ করছে।
চাকরি মেলায় তাৎক্ষণিক নিয়োগ
লালমনিরহাটে আয়োজিত দিনব্যাপী চাকরি মেলায় বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণী অংশ নেন। আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বিভিন্ন পদে তাৎক্ষণিকভাবে এক হাজার যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, এ কে এম মমিনুল হক এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
চাকরি মেলায় অংশগ্রহণকারী অনেক তরুণ জানান, স্থানীয় পর্যায়ে এমন আয়োজন বেকার যুবকদের জন্য ইতিবাচক সুযোগ তৈরি করছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলা শহরগুলোতে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সরাসরি নিয়োগ কার্যক্রম তুলনামূলক কম হওয়ায় এ ধরনের মেলা চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য আশার আলো হিসেবে কাজ করছে।
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে তিস্তা প্রকল্পের গুরুত্ব
তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরিকল্পনাটির আওতায় নদীশাসন, ড্রেজিং, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, জলাধার নির্মাণ এবং নদীর দুই পাড়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, নদীভাঙন কমবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি পর্যটন ও নদীকেন্দ্রিক শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অর্থায়ন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






