
উত্তরাঞ্চলের জেলা পাবনায় হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে হাম (মিসলস) রোগের প্রাদুর্ভাব। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ৩৮ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে দুইশ’র বেশি রোগী। বেড না পেয়ে অনেক শিশুকে করিডর, বারান্দা এমনকি মেঝেতে গাদাগাদি করে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ২৭ জন হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে ২৫ জনই ৩ মাস থেকে ১২ মাস বয়সী শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭-৮ জন ভর্তি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
হামের এই প্রাদুর্ভাব শুধু পাবনাতেই সীমাবদ্ধ নয়। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম ও হামজনিত জটিলতায় অন্তত ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে মার্চ মাসেই মারা গেছে ৩২ জন। পাবনায়ও এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ সাতটি জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, টিকার সরবরাহ ঘাটতি ও ভ্যাকসিনেশন গ্যাপই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। অনেক শিশু টিকার আওতায় আসেনি বলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১২৬ জন হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ খুললেও রোগীর চাপে তা পূর্ণ হয়ে গেছে। স্বজনরা অভিযোগ করছেন, জনবল ও ওষুধের সংকটে চিকিৎসাসেবা প্রভাবিত হচ্ছে। একাধিক অভিভাবক বলেন, “বেড না পেয়ে বারান্দায় শিশুকে নিয়ে দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে।”
আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ এমএমআর (মিজলস-মাম্পস-রুবেলা) টিকা নিলে ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা পাওয়া যায়। কিন্তু টিকার সরবরাহে ঘাটতি ও সচেতনতার অভাবে অনেক শিশু ঝুঁকিতে পড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক মঈনুল আহসান জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। পাবনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ কয়েকটি জেলায় পরিস্থিতি বেশি উদ্বেগজনক।
করণীয় কী?
– ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সী সব শিশুকে অবশ্যই এমএমআর টিকা দিন।
– আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন।
– জ্বর, গায়ে লাল দানা, কাশি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিয়ে যান।
– হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ও ভিড় এড়িয়ে চলুন।
আরও পড়ুন:
পাবনা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে অভিভাবকদের সচেতনতা ও টিকা কর্মসূচিতে আরও জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্রাদুর্ভাব যাতে আর না ছড়ায়, সেজন্য সবার সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।








