
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
১২ মার্চ, ২০২৬
গণঅভ্যুত্থান ও নতুন নির্বাচনের পর গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ শুরু হওয়ার পরপরই প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে ওয়াকআউট করেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতি যখন তাঁর ভাষণ শুরু করেন, তখন বিরোধী দলের সদস্যরা নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে চিৎকার ও হট্টগোল শুরু করেন। তাদের হাতে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর’ লেখা সম্বলিত বিভিন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
অধিবেশন থেকে বেরিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “এই সংসদ হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। আমরা ফ্যাসিস্টের দোসর রাষ্ট্রপতির ভাষণ গ্রহণ করতে পারি না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিরোধী দলীয় নেতাকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল, যার প্রতিবাদে তারা সংসদ বর্জন করেছেন।
তবে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করলেও সংসদের পরবর্তী নিয়মিত কার্যক্রমগুলোতে তারা অংশ নেবেন।
এর আগে অধিবেশনের শুরুতে সর্বসম্মতিক্রমে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্পিকার এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করেছে এবং জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। নতুন সংসদের এই প্রথম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ছিল, তবে প্রথম দিনই বিরোধী দলের এই কঠোর অবস্থান রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।






