
দেশের বাজারে হঠাৎ করে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় খোলা তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা বেড়েছে। সরকার বলছে মজুত পর্যাপ্ত এবং কোনো দাম বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়নি, তবু খুচরা বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, আসন্ন রমজান-ঈদের চাহিদা এবং কোম্পানিগুলোর সীমিত সরবরাহকে অনেকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
আরও পড়ুন:
রাজধানীর কাওরান বাজার, মিরপুর, শেওড়াপাড়া ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা গেছে। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত এক মাস ধরে সরবরাহ কম, আর গত তিন-চার দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এক খুচরা বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, “চাহিদা ২০০ লিটার হলেও পাচ্ছি মাত্র ১০০ লিটার।” অনেক দোকানে ১ ও ২ লিটারের বোতল একেবারেই মিলছে না।
বর্তমান দামের চিত্র
খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৮-২০২ টাকা প্রতি লিটার/কেজি (চট্টগ্রামে ২০০-২০২ টাকা)। চার দিন আগে ছিল ১৯৩-১৯৫ টাকা। খোলা পাম তেল এখন ১৭০-১৭২ টাকা (আগে ১৬৫-১৬৬ টাকা)।
আরও পড়ুন:
পাইকারি বাজারে (খাতুনগঞ্জ) প্রতি মণ (৩৭.৩২ কেজি) সয়াবিন তেল ৭,১৭০ টাকা এবং পাম তেল ৬,০৬০ টাকা। গত সপ্তাহে উভয়ের দাম মণপ্রতি ১৪০-১৫০ টাকা বেড়েছে।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের এমআরপি এখনও অপরিবর্তিত—১ লিটার ১৯৫ টাকা এবং ৫ লিটার ৯৫৫ টাকা। তবে কিছু দোকানে ২২০-২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কেন এই সংকট?
ব্যবসায়ীরা বলছেন, রিফাইনারি কোম্পানিগুলো সরবরাহ সীমিত রেখেছে। কারওয়ান বাজারের ডিলার মো. ইয়াসমিন জানান, “কোম্পানি যতটুকু দিচ্ছে ততটুকুই বিক্রি করছি, মজুত করছি না।” অন্যদিকে মেঘনা গ্রুপ ও সিটি গ্রুপের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাদের উৎপাদন ও মজুত স্বাভাবিক।
আরও পড়ুন:
বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ফেব্রুয়ারিতে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম টনপ্রতি ১,২৭০ ডলারে উঠেছে (ডিসেম্বরে ছিল ১,১১৬ ডলার)। পাম তেলও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ (ইরান সংকট) জ্বালানির দাম বাড়িয়ে আমদানি খরচ ও পরিশোধন খরচ বৃদ্ধি করেছে। ফলে ভোক্তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে—অনেকে একসঙ্গে দুটি বোতল কিনছেন। রমজান ও ঈদের বাজারও চাপ বাড়িয়েছে।
সরকারের অবস্থান
বাণিজ্য উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, “বাজারে কোনো সংকট নেই, দাম বাড়ানোর অনুমোদনও দেওয়া হয়নি।” তিনি ভোক্তাদের আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন, সংকট তদন্ত করা হবে এবং পরিস্থিতি দু-তিন দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন:
ভোক্তাদের ওপর প্রভাব
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। রান্নার তেল ছাড়া দৈনন্দিন জীবন চলে না। এক গৃহিণী বলেন, “এক বোতলের জায়গায় দুটি কিনতে হচ্ছে, খরচ বেড়ে গেছে।” ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, সরবরাহ আরও কমলে দাম আরও বাড়তে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার যদি আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেয় এবং কোম্পানিগুলোকে সরবরাহ বাড়াতে বাধ্য করে, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। ভোক্তাদের পরামর্শ—আতঙ্ক না করে প্রয়োজন অনুযায়ী কিনুন। সংবাদদাতা পর্যবেক্ষণ করছেন, পরবর্তী কয়েক দিনে সরকারি তদারকি কতটা কার্যকর হয় তা-ই দেখার বিষয়।






