
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রাথমিকভাবে চালু হওয়ার পর জুলাই ২০২৫-এ টপ ম্যানেজমেন্টের উপস্থিতিতে কিট ডেলিভারির মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এর ফলে দেশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চরাঞ্চল, সীমান্তবর্তী অঞ্চল ও ব্রডব্যান্ড সুবিধাবঞ্চিত জনপদে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে যাবে।
আরও পড়ুন:
স্টারলিংকের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে ঘোষণা করা হয়, “স্টারলিংকের উচ্চগতি ও কম লেটেন্সির ইন্টারনেট এখন বাংলাদেশে উপলব্ধ।” প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবও ফেসবুকে এ খবর নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) থেকে লাইসেন্স পাওয়ার পর এ সেবা চালু হয়।
সেবার বৈশিষ্ট্য:
– গতি: ডাউনলোডে ১০০-৩০০ এমবিপিএস পর্যন্ত (অবস্থানভেদে)।
– ডেটা: আনলিমিটেড।
– লেটেন্সি: কম (গেমিং, ভিডিও কনফারেন্সিং ও অনলাইন ক্লাসের জন্য উপযোগী)।
– কভারেজ: পুরো দেশজুড়ে, বিশেষ করে যেখানে ফাইবার অপটিক কেবল পৌঁছায়নি।
মূল্য নির্ধারণ:
– মাসিক প্যাকেজ শুরু হয়েছে ৪,২০০ টাকা (প্রায় ৩৫ ডলার) থেকে।
– এককালীন কিট (ডিশ ও রাউটার) এর দাম প্রায় ৪৭,০০০ টাকা।
সরকারের লক্ষ্য হলো ইন্টারনেট সেবাকে আরও নিরবচ্ছিন্ন করা এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ইন্টারনেট বন্ধের ঝুঁকি কমানো। এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ট্রেনে স্টারলিংকের ট্রায়াল চলছে, যা যাত্রীদের চলন্ত ট্রেনে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই সুবিধা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টারলিংক বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে নতুন গতি দেবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে অনেকে মূল্য কমানোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে এ সেবা গ্রহণ করতে পারে।
স্টারলিংক কিট কেনার জন্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অনুমোদিত ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। আরও তথ্যের জন্য starlink.com/bd দেখুন।
বাংলাদেশের ডিজিটাল যাত্রায় এক নতুন মাইলফলক — স্টারলিংক এখন শুধু প্রযুক্তি নয়, প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের স্বপ্ন পূরণের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠছে।








