
পাকিস্তানি নিউরোসায়েন্টিস্ট ডক্টর আফিয়া সিদ্দিকীকে ২০০৩ সালে দেশের আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থা (আইএসআই) ৫৫,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার (United States Intelligence Community বা USIC) কাছে ‘বিক্রি’ করে দিয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন তাঁর আইনজীবী।
আরও পড়ুন:
ব্রিটিশ মানবাধিকার আইনজীবী ক্লাইভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথ (যিনি ডক্টর আফিয়ার হয়ে মামলা লড়ছেন) সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকার ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, সিআইএ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে ৫৫,০০০ ডলার দিয়ে আফিয়া সিদ্দিকীকে কিনে নিয়েছিল। এটি জাতির কন্যাকে বিক্রি করার লজ্জাজনক ঘটনা।”
আইনজীবী আরও জানান, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফের আমলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কিছু ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ কর্মকর্তা বাউন্টি (পুরস্কার) হিসেবে এই অর্থ গ্রহণ করেন। এরপর আফিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁকে আফগানিস্তান হয়ে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চালানো হয়। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কারাগারে ৮৬ বছরের সাজা ভোগ করছেন।
আরও পড়ুন:
এই অভিযোগ ঘিরে পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে এটিকে জাতীয় অপমান বলে অভিহিত করেছেন। আফিয়া সিদ্দিকীর পরিবার ও সমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মুক্তির দাবি করে আসছেন। তবে পাকিস্তান সরকার এখনও এই অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
পটভূমি
২০০৩ সালে করাচি থেকে নিখোঁজ হন ডক্টর আফিয়া সিদ্দিকী। পরে ২০০৮ সালে আফগানিস্তানের গজনিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। তবে তাঁর আইনজীবীসহ অনেকে দাবি করেন, এই মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ক্লাইভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথ আরও বলেন, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ আফিয়ার মুক্তির ব্যাপারে আগ্রহী নয়, কারণ তাহলে তাদের অবৈধ কার্যকলাপ প্রকাশ হয়ে পড়বে।
আরও পড়ুন:
এই ঘটনা আবারও পাক-মার্কিন গোয়েন্দা সহযোগিতা ও ‘ওয়ার অন টেরর’-এর সময়কার বিতর্কিত লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আফিয়া সিদ্দিকীর মুক্তির দাবিতে বিশ্বজুড়ে আন্দোলন চলছে।
(সংবাদ সূত্র: আইনজীবী ক্লাইভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথের সাম্প্রতিক বক্তব্য)








