
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মুখে সরকার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে সরকারি-বেসরকারি সব অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। একইসঙ্গে দেশের সব দোকানপাট, বিপণিবিতান ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দেশের জ্বালানি সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে। এতে যানজট কমবে, জ্বালানি খরচ কমবে এবং সরকারি ব্যয় সংকোচন হবে।”
ব্যাংকের সময়সূচিতেও পরিবর্তন
নতুন নিয়মে ব্যাংকের লেনদেন চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। ব্যাংকের অন্যান্য কার্যক্রম শেষ করতে ৪টা পর্যন্ত সময় পাবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
পাম্পে তেলের সরবরাহ সীমিত
ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ডিপো থেকে সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। সরকার অবশ্য জানিয়েছে, দেশে এক মাসের জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং বিকল্প উৎস থেকে আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।
আরও পড়ুন:
কোন কোন ক্ষেত্রে ছাড়?
জরুরি সেবা যেমন—ফার্মেসি, কিচেন মার্কেট, খাবারের দোকান ও হোটেল এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। তবে সাধারণ দোকানপাট ও শপিংমলকে ঠিক ৬টায় বন্ধ করতে হবে।
আরও কী কী সিদ্ধান্ত?
মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী তিন মাস সরকারি ব্যয় আরও কমানো হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণ কমিয়ে আনা, আপ্যায়ন খরচ ৫০ শতাংশ হ্রাসসহ একাধিক সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দেবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
আরও পড়ুন:
জনজীবনে প্রভাব
এই সিদ্ধান্তে অফিসগামী মানুষের যাতায়াতের সময় কমবে, জ্বালানি খরচ সাশ্রয় হবে। তবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে, তারা সরকারের এই উদ্যোগকে সমর্থন করে তবে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে চায়।
সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
(তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ)
আরও পড়ুন:






