
নিজস্ব প্রতিবেদন || আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৪ মার্চ ২০২৬
কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি ‘আল-উদেঈদ’-এ সরাসরি আঘাত হেনেছে ইরানের ব্যালেস্টিক মিসাইল। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (৪ মার্চ) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে চারটার দিকে এই হামলার খবর প্রকাশ্যে আসে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দোহার দিকে লক্ষ্য করে ইরান মোট দুটি ব্যালেস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছিল। এর মধ্যে একটি মিসাইল কাতারি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়। তবে অন্য মিসাইলটি সরাসরি মার্কিন সেনাদের অবস্থান থাকা আল-উদেঈদ বিমানঘাঁটিতে গিয়ে আঘাত হানে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো ব্যাপক বিমান হামলার প্রতিবাদে তারা এই ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা এবং সামরিক দপ্তরগুলোতে হামলার পর তেহরান এই ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোঁড়ে।
কাতার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ না করলেও আন্তর্জাতিক কিছু সংবাদমাধ্যম (যেমন: আল-জাজিরা ও অন্যান্য সূত্র) জানিয়েছে, মিসাইলটি ঘাঁটির একটি রাডার ডোম বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। তবে মার্কিন পেন্টাগন থেকে জানানো হয়েছে যে, মূল সামরিক সক্ষমতা এখনো অটুট আছে।
মিসাইল হামলার পরপরই কাতার প্রশাসন তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অনুযায়ী, হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দোহা থেকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) সাথে যুক্ত দুটি ‘স্লিপার সেল’ বা গুপ্তচর চক্রকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, তারা কাতারের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা সম্পর্কে ইরানকে তথ্য সরবরাহ করছিল।
হামলার পরপরই নিরাপত্তার খাতিরে কাতারের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (হামাদ এয়ারপোর্ট) দিকেও কয়েকটি ড্রোন ও মিসাইল ধেয়ে এসেছিল, তবে কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।
শুধুমাত্র কাতার নয়, ইরান একই সময়ে কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটির দিকেও মিসাইল ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আল-উদেঈদ ঘাঁটিতে এই হামলা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ওপর বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। যদিও কাতার ও ইরানের মধ্যে আগে সুসম্পর্ক ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই হামলা কাতারের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এর ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরার আশঙ্কা রয়েছে।








