
ঘটনাটি বেশ চমকপ্রদ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ হাসির খোরাক জোগালেও, এটি আসলে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের (Psychological Warfare) একটি বড় উদাহরণ। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ছবির বরাতে দাবি করা হচ্ছে যে, ইরান তাদের একটি বিমান ঘাঁটিতে একটি হেলিকপ্টারের ২ডি (2D) প্রিন্টেড ইমেজ বা ডামি ছবি মাটির ওপর বিছিয়ে রেখেছিল।
ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মাঝে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর কড়া নজর রাখছে। গোয়েন্দা ড্রোন বা স্যাটেলাইট যখন আকাশ থেকে ছবি তোলে, তখন অনেক সময় আসল সামরিক সরঞ্জাম এবং ডামির মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।
কীভাবে ইসরায়েল ‘ফাঁদে’ পড়লো?
ইরান প্রায়ই যুদ্ধের কৌশল হিসেবে আসল বিমানের বদলে কাঠ, প্লাস্টিক বা কাগজের তৈরি ‘ডামি’ ব্যবহার করে। একে সামরিক ভাষায় ‘Decoy’ বলা হয়। গোয়েন্দা ছবিতে দেখা যায় একটি হেলিকপ্টার খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (IDF) মনে করেছিল এটি কোনো হাই-ভ্যালু টার্গেট (যেমন: রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক কোনো হেলিকপ্টার)।
ইসরায়েল সাধারণত নিখুঁত হামলার জন্য Spike বা এই জাতীয় অত্যন্ত দামী গাইডেড মিসাইল ব্যবহার করে, যার একেকটির দাম কয়েক লক্ষ ডলার। মিসাইলটি আঘাত করার পর দেখা যায় সেখানে কোনো ধাতব ধ্বংসাবশেষ নেই, বরং সেটি ছিল স্রেফ একটি ছবি বা সাধারণ কাঠামোর ডামি।
কেন এমনটা করা হয়?
মাত্র কয়েক হাজার টাকার একটি ছবি ধ্বংস করতে কয়েক কোটি টাকার মিসাইল নষ্ট করানো। মিসাইল কোথা থেকে ছোঁড়া হচ্ছে বা শত্রুর রাডার কীভাবে কাজ করছে তা বোঝার জন্য। শত্রুপক্ষকে বোকা বানিয়ে তাদের গোয়েন্দা ব্যবস্থার দুর্বলতা ধরিয়ে দেওয়া।মূল কথা: যুদ্ধের ময়দানে বুদ্ধি যে অস্ত্রের চেয়ে বড় শক্তি, এই ঘটনাটি তারই একটি হাস্যরসাত্মক উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।








