
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র মুখপাত্রের সাম্প্রতিক এক বিবৃতি। মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান কেবল আত্মরক্ষা নয়, বরং একটি ‘দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের’ জন্য সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—ইরান এমন কিছু উন্নত ও অপ্রকাশিত অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে, যা আগে কখনো কোনো যুদ্ধে দেখা যায়নি।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কৌতূহল রয়েছে। আইআরজিসি-র এই বার্তার পর কয়েকটি বিশেষ প্রযুক্তির কথা সামনে আসছে:
হাইপারসনিক মিসাইল: ইরান দাবি করে আসছে যে তাদের কাছে এমন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা বিশ্বের যেকোনো উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।
অ্যাডভান্সড ড্রোন প্রযুক্তি: ‘কামিকাজে’ বা আত্মঘাতী ড্রোনের আধুনিক সংস্করণ যা রাডারে ধরা পড়ে না।
ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার: শত্রুদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক অচল করে দেওয়ার মতো অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম।
গোপন ভূগর্ভস্থ মিসাইল সিটি: ইরান তাদের পাহাড়ের নিচে তৈরি বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার বা ‘মিসাইল সিটি’ থেকে আক্রমণ শানানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রস্তুতি কেন?
আইআরজিসি-র মতে, ইরান কেবল স্বল্পমেয়াদী সংঘাত নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধের পরিকল্পনা সাজিয়েছে। এর পেছনে মূল কারণগুলো হলো।
লেবানন, ইয়েমেন এবং ইরাকে থাকা মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে সমন্বয় করে ইসরায়েল বা পশ্চিমী স্বার্থে আঘাত হানা।
নিজস্ব ভূখণ্ডের বিশালতা এবং ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে শত্রুকে ক্লান্ত করে দেওয়া।
বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থেকেও ইরান তাদের সামরিক উৎপাদন সচল রাখতে শিখেছে।
এই বিবৃতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে একটি ‘কৌশলগত ডিটারেন্স’ বা নিবৃত্তিকরণ নীতি। অর্থাৎ, ইরান বিশ্বের পরাশক্তিগুলোকে এই বার্তা দিতে চাইছে যে—ইরানে হামলা চালালে তার ফল হবে অভাবনীয় এবং দীর্ঘমেয়াদী ধ্বংসাত্মক।
“আমরা এমন অস্ত্র প্রয়োগের অপেক্ষায় আছি যা শত্রুর কল্পনাকেও হার মানাবে।” — আইআরজিসি মুখপাত্র
ইরানের এই হুঁশিয়ারি কি কেবলই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ (Psychological Warfare), নাকি সত্যিই তাদের ঝুলিতে এমন কোনো ‘গেম চেঞ্জার’ অস্ত্র রয়েছে—তা সময় বলে দেবে। তবে এই বক্তব্য যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।








