
রাজধানীতে মানব কঙ্কাল চুরি ও পাচারের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পর্দা উন্মোচন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তেজগাঁও বিভাগের বিশেষ অভিযানে ৪৭টি মাথার খুলি ও মানবদেহের বিপুল পরিমাণ হাড় উদ্ধারসহ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুজন সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের দন্ত চিকিৎসা শিক্ষার্থী রয়েছেন।
আরও পড়ুন:
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ ইবনে মিজান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত তেজগাঁও ও উত্তরা এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়। প্রথমে তেজগাঁওয়ের মণিপুরীপাড়া এলাকা থেকে কাজী জহরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক (২৫) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি পূর্ণ কঙ্কাল উদ্ধার হয়। পরে তেজগাঁও কলেজের সামনে থেকে মো. আবুল কালাম (৩৯) ও আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদ (৩২)-কে আটক করে আরও দুটি কঙ্কাল জব্দ করা হয়। সবশেষে উত্তরা সেক্টর-৯-এর সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজের হোস্টেল থেকে মো. ফয়সাল আহম্মেদ (২৬)-কে গ্রেফতার করা হয়। তার কক্ষ থেকে ৪৪টি খুলি ও বিপুল পরিমাণ হাড়সহ কয়েকটি প্লাস্টিকের ব্যাগ ও বস্তা উদ্ধার হয়।
আরও পড়ুন:
পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলা—বিশেষ করে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও জামালপুরের অরক্ষিত কবরস্থান থেকে কঙ্কাল সংগ্রহ করত। মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ তুলে নিয়ে রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করা হতো। সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে ৬-৮ হাজার টাকায় কিনে ১৫-২০ হাজার টাকায় বিক্রি করত তারা। ‘Bones Selling’ নামে একটি অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে মূলত মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের কাছে এসব কঙ্কাল সরবরাহ করা হতো। গ্রুপটিতে প্রায় ২০ হাজার সদস্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন:
গ্রেফতারকৃত সৌমিক সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ফয়সাল সম্প্রতি ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে ইন্টার্নশিপের অপেক্ষায় ছিলেন। আবুল কালামের বিরুদ্ধে ২১টি এবং আসাদুল মুন্সীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে। আদালত চারজনকেই কারাগারে পাঠিয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের তদন্ত চলছে। কোনো পরিবার যদি সন্দেহ করে যে তাদের স্বজনের দেহাবশেষ চুরি হয়েছে, তাহলে ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মানবদেহের প্রতি শ্রদ্ধা না রেখে এমন জঘন্য ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি উঠেছে। পুলিশের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
আরও পড়ুন:
(সূত্র: ডিএমপি প্রেস ব্রিফিং ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্র। তদন্ত চলমান থাকায় আরও তথ্য আপডেট করা হবে।)








