
বিভাগীয় নগরী রংপুরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ‘মেডিকেল মোড়’ এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড়গামী বাসগুলো নিয়মবহির্ভূতভাবে এই মোড় দখল করে যাত্রী ওঠানামা করায় দিনরাত তীব্র যানজট লেগে থাকছে। ফলে উত্তরবঙ্গের প্রধান চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে আসা জরুরি রোগীদের যাতায়াত চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেডিকেল মোড়ের মূল সড়কের বড় একটি অংশ দখল করে রাখে আন্তঃজেলা বাসগুলো। বাসচালকরা মাঝরাস্তায় গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ডাকতে থাকায় রিকশা, অটো এবং ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের জায়গা থাকছে না। সাধারণ পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ফাঁক দিয়ে রাস্তা পার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ এবং শিশুদের জন্য এই রাস্তা পারাপার
এখন আতঙ্কের নাম।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে পরিবহন সিন্ডিকেট
এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যানজট নিরসনে এই বাস স্ট্যান্ডটি শহরের বাইরে ‘সিও বাজার’ এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছিল। কিছুদিন সেখানে কার্যক্রম চললেও প্রভাবশালী পরিবহন সিন্ডিকেট ও চালকদের জেদের মুখে আবারও তারা জোরপূর্বক মেডিকেল মোড় দখল করে নিয়েছে। প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না করে জনাকীর্ণ এই এলাকাকে তারা স্থায়ী স্ট্যান্ডে রূপান্তর করেছে, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন:
অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন থামছে বাসের জটলায়!!!
সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা যায় অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের ক্ষেত্রে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা জরুরি রোগীদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সগুলো এই কৃত্রিম যানজটে আটকে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। স্থানীয় এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, “হাসপাতালের গেটের সামনেই যদি বাসের জটলা থাকে, তবে রোগী বাঁচবে কীভাবে? সামান্য কয়েকশ গজ পথ পার হতে আধা ঘণ্টা সময় লাগছে। প্রশাসনের কি কোনো নজর নেই?”
আরও পড়ুন:
সচেতন মহলের দাবি:
সাধারণ জনগণ এবং সচেতন মহলের দাবি—অবিলম্বে এই অবৈধ বাস স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে শহর এলাকা থেকে সিও বাজার পার হয়ে ফাঁকা জায়গায় স্থায়ীভাবে স্থানান্তর করা হোক। মেডিকেল মোড়ের মতো সংবেদনশীল এলাকাকে বাস মুক্ত না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা বিনা চিকিৎসায় প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তারা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।








