
রমজানের পবিত্র মাসে সারা দেশে যখন ইফতার-সেহরির আয়োজন চলছে, তখন এক এতিমখানা-মাদ্রাসায় থাকা ছোট্ট শিশুর চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোড়ন তুলেছে। মাত্র কয়েক বছরের শিশু তাহাসিন আব্দল্লাহ তার মায়ের কাছে লিখেছে একটি সরল কিন্তু হৃদয়বিদারক চিঠি। চিঠিতে সে সাবান, সাদা পাঞ্জাবি, ভালো খাবার এবং মশারি চেয়েছে।
আরও পড়ুন:
চিঠির মূল অংশ (যা ভাইরাল হয়েছে):
“আম্মা, আমারে সাবান দিও। তিন দিন আগে সাবান শেষ। একটা সাদা পাঞ্জাবি দিও, আগেরটা ছিঁড়া গেছে। ইফতারিতে বুট-মুড়ি দেয়। রাইতে ভাত দেয় না, একবারে সেহরিতে ভাত দেয়। কিছু খাওন আইনো, ভালো খাওন। একটা মশারি দিও, চাদর গায়ে দিলে মশা কামড়ায়।”
চিঠির সঙ্গে শিশু তাহাসিনের একটি নিষ্পাপ হাস্যোজ্জ্বল ছবি ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে সে সাদা পাঞ্জাবি ও টুপি পরে বসে আছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় লাখো মানুষ চিঠিটি শেয়ার করেছেন। অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
আরও পড়ুন:
কী বলছে চিঠি?
– সাবান তিন দিন আগে শেষ।
– আগের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে গেছে, নতুন সাদা পাঞ্জাবি চায়।
– ইফতারে শুধু বুট-মুড়ি, রাতের খাবারে ভাত নেই।
– সেহরিতে একবার ভাত দেওয়া হয়।
– ভালো খাবারের অভাব।
– মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি চায়।
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা বলছেন, “এতিমখানা বা মাদ্রাসাগুলোতে অনেক শিশুর এমন অবস্থা। রমজানে ইফতার-সেহরির নামে শুধু বুট-মুড়ি দেওয়া কোনো ধর্মীয় দায়িত্ব পালন নয়।” অনেকে এটিকে শিশু অধিকার লঙ্ঘন বলেও মন্তব্য করেছেন।
তাহাসিন কে?
তাহাসিন আব্দল্লাহ একটি এতিমখানা-মাদ্রাসায় থাকে। তার বয়স খুবই কম। মায়ের কাছ থেকে দূরে থেকে সে এই চিঠি লিখেছে। চিঠির ভাষা সরল, শিশুসুলভ — যা পড়লে যেকোনো মানুষের মন গলে যায়।
সমাজের প্রতিক্রিয়া
আরও পড়ুন:
চিঠিটি প্রকাশের পর অনেকে সাহায্যের হাত বাড়াতে চাইছেন। কেউ কেউ বলছেন, “এমন শিশুদের জন্য আমরা কী করতে পারি?” বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ঘটনা রমজানে এতিমখানা ও মাদ্রাসাগুলোর খাবার-পরিবেশের মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
আপনার এলাকায় বা কোনো এতিমখানায় যদি এমন শিশু থাকে, তাদের পাশে দাঁড়ান। একটা সাবান, একটা পাঞ্জাবি বা একটা মশারি হয়তো তাদের রমজানকে অনেক সুন্দর করে তুলতে পারে।
এই ঘটনাটি শুধু একটি শিশুর ব্যক্তিগত দুঃখকষ্ট নয়, বরং দেশের হাজারো এতিম ও দুস্থ শিশুর জন্য একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের (যেমন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ) মাধ্যমে নিবন্ধিত মাদ্রাসা, এতিমখানা ও কওমি মাদ্রাসায় ক্যাপিটেশন গ্রান্ট, বিশেষ মঞ্জুরি, রমজানকালীন অনুদান এবং অন্যান্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে। তবুও অনেক ছোট-বড়, বিশেষ করে অ-নিবন্ধিত বা স্বীকৃতিহীন মাদ্রাসা-এতিমখানায় এই সহায়তা পৌঁছায় না বা অপর্যাপ্ত থাকে। ফলে শিশুদের মৌলিক চাহিদা—যেমন পর্যাপ্ত খাবার, সাবান, পোশাক, মশারি—পূরণে ঘাটতি দেখা যায়। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারের দায়িত্ব আরও বেশি সক্রিয় হওয়া উচিত—নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা, অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করা, নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা এবং রমজানের মতো সময়ে বিশেষ তদারকি বাড়ানো। কারণ এসব শিশু শুধু পরিবারের নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বও বহন করে; তাদের অবহেলা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি অবিচার।
আরও পড়ুন:
(সূত্র: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল চিঠি ও ছবি, ১৫ মার্চ ২০২৬)








