
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মরিয়ম আক্তার (৪) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মারুয়াখালি গ্রামের একটি বাড়ির রান্নাঘরের চুলার ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।
আরো পড়ুন:
নিহত মরিয়ম একই গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমানের মেয়ে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে প্রতিবেশী সাদ্দাম মিয়া (৩৮) ও তার ছেলে ইয়াছিন মিয়াকে (১৬) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ১টার দিকে মরিয়ম নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে ইফতারের আগমুহূর্তে প্রতিবেশী সাদ্দাম মিয়ার রান্নাঘরের চুলার ভেতরে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
আরো পড়ুন:
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, মরিয়মের গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের রুপার চেইন ছিনিয়ে নিতে গিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, চেইন ছিনতাইয়ের সময় শিশুটি কান্না শুরু করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহটি চুলার ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়।
নিহত শিশুটির মামা হাবিবুর রহমান জানান, ঈদ উপলক্ষে মরিয়মের জন্য নতুন পোশাক কেনার প্রস্তুতি চলছিল। তিনি নিজেও বাজারে গিয়েছিলেন শিশুটির জন্য জামা কিনতে। এ সময়ই নিখোঁজের খবর পান। তিনি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
আরো পড়ুন:
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় থাকা রুপার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।








