
ঢাকা, ২৫ মার্চ – আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারের কাছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শুরু হওয়া আর্থিক খাতের সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন ‘রোডম্যাপ’ চেয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বুধবার আবাসিক প্রতিনিধি ম্যাকসিম কিরিশকোর সঙ্গে আরও আলোচনা হওয়ার কথা।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকি বলেন, “তারা রোডম্যাপের মতো একটা প্রতিবেদন চেয়েছেন। কোন সংস্কার কখন এবং কীভাবে করা হবে, তার লিখিত ধারণা চেয়েছেন।” একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে ব্যাপক সংস্কার শুরু হয়েছিল—পাঁচটি দুর্বল বেসরকারি ব্যাংকের মার্জার, অর্থপাচারের তদন্ত জোরদার এবং পুরোপুরি বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করা। আইএমএফ এখন দেখতে চায় নির্বাচিত সরকার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে কি না।
বর্তমানে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা। আইএমএফ চায় খেলাপি ঋণ কমানো, কর অব্যাহতি বাতিল, ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক মুদ্রানীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বাড়ানোর বিষয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা।
আরও পড়ুন:
একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন তহবিলের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও এলএনজি আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকার ইতিমধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক অর্থায়ন চাইছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী এপ্রিলে আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আইএমএফের বিদ্যমান ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ প্রোগ্রামের ষষ্ঠ কিস্তি (প্রায় ১৩০ কোটি ডলার) ছাড়ের জন্যও আগামী মাসে মিশন ঢাকায় আসবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের পর নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সঙ্গে আইএমএফের এই প্রথম বড় ধরনের বৈঠক। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সংস্কারের ধারাবাহিকতা না থাকলে ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় ও নতুন তহবিল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সরকার অবশ্য জ্বালানি খাতে ভোক্তা পর্যায়ে দাম না বাড়িয়ে অর্থায়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, আলোচনা সফল হলে জুনের মধ্যেই ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ পাওয়া সম্ভব। এদিকে জ্বালানি আমদানির জন্য এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
(সংবাদটি বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইএমএফ সূত্রের বরাতে তৈরি। আপডেটের জন্য নিয়মিত খোঁজ রাখুন।)






