
রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে কম দামে উন্নতমানের পাঞ্জাবি বিক্রি করে আলোচনায় আসা ‘নবীন ফ্যাশন’ (নবীন পাঞ্জাবি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফেজ এনামুল হাসান নবীন শেষ পর্যন্ত ব্যবসা বন্ধ করে প্রবাসে চলে গেছেন। প্রবাস থেকে ফিরে কাউকে না ঠকিয়ে সুলভ মূল্যে পণ্য বিক্রি এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করেও স্থানীয় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের চাপ, হুমকি ও হয়রানির কাছে হার মানতে হয়েছে তাঁকে।
আরও পড়ুন:
গত শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদের আগের দিন মগবাজারের দোকানে কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রির কারণে পাশের দোকান ‘প্রিন্স’-এর মালিক মাইকেলসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা মব সৃষ্টি করে দোকান বন্ধ করে দেন। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের সহায়তায় বিকেল ৪টার দিকে জোরপূর্বক দোকান বন্ধ করা হয় এবং ক্রেতাদেরও হেনস্তা করা হয়। সিন্ডিকেটের লোকজন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই মার্কেটে ৪,৫০০ টাকার নিচে পাঞ্জাবি এবং ১,৫০০ টাকার নিচে পাজামা বিক্রি করা যাবে না।
হাফেজ এনামুল হাসান নবীন জানান, তাঁর দোকানে পাঞ্জাবির দাম শুরু হয় মাত্র ৩০০ টাকা থেকে। উৎপাদন খরচ কম রেখে ভালো মানের পণ্য বিক্রি করতেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁর ফ্যাক্টরিতে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গের এবং পূর্বে মাদকাসক্ত মানুষদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রবাস থেকে ফিরে সৎ ও সুলভ ব্যবসার মাধ্যমে দেশে অবদান রাখতে চেয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন:
ঘটনার পর থেকে প্রতিনিয়ত মেরে ফেলার হুমকি ও দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পুলিশ নিরাপত্তা না দিয়ে উল্টো সিন্ডিকেটের পক্ষে কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন নবীন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিশাল সেন্টারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি সবকিছু খুলে বলেন। পরে ফেসবুকে পোস্ট করে জানান, “সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না, তাই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো একদিন ফিরব।”
আরও পড়ুন:
এ ঘটনায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, দেশে সস্তায় ভালো জিনিস বিক্রি করাও যেন অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট সাধারণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসা করতে দিচ্ছে না। সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় সৎ ব্যবসায়ীরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
নবীন ফ্যাশনের এই ঘটনা ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও প্রশাসনের নীরবতার আরেকটি উদাহরণ হয়ে রইল। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সুলভ মূল্যের ব্যবসা উৎসাহিত করার পরিবর্তে এমন হয়রানি কতদিন চলবে— প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র।








