
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেলের আঘাতে ৫ পুলিশ সদস্যসহ উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্তমানে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ রোববার (১৭ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুপুরের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা জরুরি বৈঠকে বসেন।
ভিসি নিয়োগের পর থেকেই অসন্তোষ
স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। তবে এই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই ডুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে ডুয়েটের নিজস্ব কোনো যোগ্য শিক্ষককেই উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। বাহিরের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষক এনে এখানে উপাচার্য করার সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন না। এই দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাতেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
যেভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত
বৃহস্পতিবারের ধারাবাহিকতায় আজ রোববার সকালে ডুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ভিসি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মিছিলটি ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ শুরু হয়। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ ও অ্যাকশনে যায়। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পাস এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ইটপাটকেলের আঘাতে ৫ জন পুলিশ সদস্যসহ দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
এ বিষয়ে গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “ডুয়েটের উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা চলছিল। শিক্ষার্থীদের একটা অংশের দাবি ছিল, যেন ডুয়েটের অভ্যন্তরীণ কোনো শিক্ষককেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। বাহিরের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় তারা আজ সকালে শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।”
ওসি আরও জানান, “একপর্যায়ে পুলিশ ও ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ইটপাটকেলের আঘাতে পাঁচজন পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
সংকট সমাধানে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক
দুপুরে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর ডুয়েটের প্রশাসনিক ভবনে এক জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গাজীপুর জেলা পুলিশ ও আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল এই বৈঠকে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া পর্যালোচনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ডুয়েটের নিজস্ব শিক্ষকদের বাদ দিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে ভিসি হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারা যৌক্তিকভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তবে প্রশাসনের সাথে বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে তারা পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন।nhhh
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।






