
বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রক্রিয়া নতুন করে গতি পেয়েছে। দীর্ঘদিনের বিলম্ব কাটিয়ে ধাপে ধাপে এই আধুনিক টার্মিনাল চালু করার প্রস্তুতি চলছে, যা দেশের বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন:
প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা
তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শুরু হয় এবং ২০২৩ সালে আংশিক উদ্বোধন করা হলেও এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা, বিশেষ করে ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধের কারণে কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছে।
২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকার এই টার্মিনাল চালুর জন্য নতুন করে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর অথবা ২০২৭ সালের শুরুতে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে পারে।
এদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, টার্মিনালটি চালু করতে আরও ৬ থেকে ৯ মাস সময় লাগতে পারে, কারণ পরীক্ষামূলক কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সমন্বয় প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:
সক্ষমতা ও আধুনিক সুবিধা
তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে দেশের বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে যেখানে বছরে প্রায় ৮ মিলিয়ন যাত্রী সেবা দেওয়া সম্ভব, সেখানে নতুন টার্মিনাল যুক্ত হলে তা বেড়ে প্রায় ২২–২৪ মিলিয়নে পৌঁছাবে।
এই টার্মিনালে থাকবে—
- ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ
- ১০০টির বেশি চেক-ইন কাউন্টার
- স্বয়ংক্রিয় ই-গেট ও আধুনিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা
- উন্নত ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম
- বড় কার্গো টার্মিনাল ও মাল্টি-লেভেল পার্কিং
এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে উন্নত প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সংযোজন করা হয়েছে।
পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জ
টার্মিনাল চালুর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এর অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স। সরকার এই কাজ একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনা করছে, যা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে হতে পারে।
জাপানি একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনাও চলছে, যা চূড়ান্ত হলে পরিচালনা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বিমান খাতে সম্ভাব্য পরিবর্তন
তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বাংলাদেশের বিমান খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে—
- আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সংখ্যা বাড়বে
- যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে
- কার্গো পরিবহন বৃদ্ধি পাবে
- বিমানবন্দরটি আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই টার্মিনাল চালু হলে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
অর্থনৈতিক প্রভাব
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পর্যটন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়া উন্নত কার্গো সুবিধা চালু হলে রপ্তানি খাত বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও কৃষিপণ্যের পরিবহন আরও সহজ হবে।
আরও পড়ুন:
⚠️ চ্যালেঞ্জ ও করণীয়
তবে কিছু চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে—
- পরিচালন চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করা
- দক্ষ জনবল প্রশিক্ষণ
- প্রযুক্তিগত সমন্বয়
- গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন
এসব চ্যালেঞ্জ দ্রুত সমাধান করতে পারলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হবে।






