
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস তিস্তা নদীকে ঘিরে আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে তিস্তা প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট এবং বর্ষায় অতিরিক্ত প্রবাহের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তিস্তা পাড়ের মানুষ। এই বাস্তবতায় সরকার নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।
আরও পড়ুন:
প্রকল্পের আওতায় নদী খনন, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, তীর সংরক্ষণ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের মতো নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তবে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তঃসীমান্ত পানিবণ্টন সমস্যা, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত চুক্তি। শুষ্ক মৌসুমে উজানে ভারত পানি প্রত্যাহার করায় বাংলাদেশ অংশে তিস্তার প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সেচব্যবস্থা ব্যাহত হয় এবং নদী নির্ভর জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে।
আরও পড়ুন:
২০১১ সালে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির একটি খসড়া তৈরি হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতা—বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আপত্তি—এই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সব মিলিয়ে, তিস্তা প্রকল্প শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি একটি কূটনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী চ্যালেঞ্জও। পানিবণ্টন সমস্যার সমাধান ছাড়া প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পাওয়া কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে কত দ্রুত এই জট খুলে উন্নয়নের পথে এগোনো যায়।







