
দেশের স্বাস্থ্যখাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে সন্দেহভাজন হাম (measles) সংক্রমণ। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা জেলায় হাম-সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। যদিও এ সংখ্যা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় হাসপাতাল ও অভিভাবকদের বরাতে জানা যায়, জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হওয়াসহ হাম-এর উপসর্গ নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় কুমিল্লার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র শয্যা সংকট।
পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে আজ কুমিল্লার শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং রোগীদের খোঁজখবর নেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, “ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে।”
আরও পড়ুন:
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেক শিশুকে মেঝেতে কিংবা অস্থায়ী শয্যায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে করে রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, অপুষ্টি এবং জনসচেতনতার অভাবের কারণে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। তারা দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ মেডিকেল টিম মোতায়েনের পরামর্শ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজ চলছে। পরীক্ষার ফলাফল না আসা পর্যন্ত এটিকে নিশ্চিতভাবে হাম বলে ঘোষণা করা হচ্ছে না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।








