
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে স্মরণকালের ভয়াবহ অস্থিরতা শুরু হয়েছে। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫,১৪০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬,২৮,৮০০/- টাকা) স্পর্শ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া উত্তেজনা এবং বিশ্ব অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে বাজারে এই অভাবনীয় তেজি ভাব দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
কেন বাড়ছে সোনার দাম?
বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কয়েকটি বড় কারণে সোনার দাম এভাবে আকাশচুম্বী হয়েছে:
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল কেন্দ্রিক সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার ফলে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতি ও ডলারের মান: বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়া এবং বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের মানে অস্থিতিশীলতা আসায় বিনিয়োগকারীরা মুদ্রার পরিবর্তে সোনা মজুত করাকে অধিক নিরাপদ মনে করছেন।
আরও পড়ুন:
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনা: চীন, ভারত এবং রাশিয়ার মতো দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত কয়েক মাস ধরে রেকর্ড পরিমাণ সোনা কিনে তাদের রিজার্ভ বাড়াচ্ছে।
রেকর্ড গড়া এই দামের প্রভাব
বাজার বিশ্লেষণী সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই সোনার দাম চড়ছিল। জানুয়ারি মাসে যা ছিল আউন্সপ্রতি ৩,০০০ (প্রায় ৩,৬৭,০০০/- টাকা) থেকে ৪,০০০ (প্রায় ৪,৮৯,৩০০/- টাকা) ডলারের ঘরে, মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে তা ৫,০০০ (প্রায় ৬,১১,৬০০/- টাকা) ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করল।
“বাজারে বর্তমানে যে ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করছে, তাতে সোনার দাম ৫,৫০০ (প্রায় ৬,৭২,৮০০/- টাকা) ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে,” বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক এক শীর্ষ কমোডিটি বিশেষজ্ঞ।
আরও পড়ুন:
দেশের বাজারে প্রভাব
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও। বিশ্ববাজারের এই রেকর্ড উল্লম্ফনের পর বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS) দ্রুত সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের বাজারে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।







