
সম্প্রতি মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে এক আবেগঘন ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যখন একজন ব্যক্তি উচ্চস্বরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে মার্কিন নীতির বিরোধিতা করেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যাপিটল পুলিশ এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক কক্ষ থেকে বের করে দিচ্ছে, যিনি চিৎকার করে বলছিলেন, “এটি ভুল এবং কেউ ইসরায়েলের হয়ে যুদ্ধ করতে চায় না।”
আরও পড়ুন:
কে এই ব্যক্তি?
ভিডিওতে দৃশ্যমান এই ব্যক্তির নাম সেঠ আব্রামসন (Seth Abramson) (কিছু সূত্রমতে তাকে সাবেক মেরিন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে)। তিনি একজন যুদ্ধবিরোধী অ্যাক্টিভিস্ট। ঘটনার সময় তিনি মার্কিন মেরিন কোরের ঐতিহ্যবাহী ইউনিফর্মের সদৃশ পোশাকে উপস্থিত ছিলেন।
কেন এই প্রতিবাদ?
ঘটনাটি ঘটেছিল যখন মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির (Senate Armed Services Committee) একটি শুনানি চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন মেরিন কোরের কমান্ড্যান্ট এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। আব্রামসনের প্রতিবাদের মূল কারণগুলো ছিল। তিনি গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করছিলেন এবং মার্কিন সরকারকে সেখানে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছিলেন। তিনি দাবি করেন যে, আমেরিকান জনগণ বা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা অন্য একটি দেশের (ইসরায়েল) স্বার্থে যুদ্ধে জড়াতে চায় না। শুনানিতে বাধা দেওয়ার সময় তিনি চিৎকার করে গাজায় শিশুদের মৃত্যু এবং মানবিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন:
ঘটনার বিবরণ






ভিডিওতে দেখা যায়, আব্রামসন যখন চিৎকার করে তার বক্তব্য পেশ করছিলেন, তখন নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে দ্রুত ঘিরে ফেলে। তাকে কক্ষ থেকে বের করে নেওয়ার সময় ধস্তাধস্তি হয় এবং বেশ কিছু চেয়ার উল্টে যায়। এই সময় তাকে বলতে শোনা যায়, “কমান্ড্যান্ট, একজন মেরিন হিসেবে আপনি সত্যের পক্ষে দাঁড়ান।” তাকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত অন্যান্য প্রতিবাদকারীরাও তার সমর্থনে স্লোগান দিতে থাকেন।
এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এক পক্ষ একে ‘দেশপ্রেমিক মেরিনের সত্য ভাষণ’ হিসেবে বর্ণনা করছেন, যারা মনে করেন আমেরিকার নিজের সমস্যার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, অনেকে এই ধরনের শুনানিতে বাধা দেওয়াকে বিশৃঙ্খলা হিসেবে দেখছেন।
আরও পড়ুন:
এই ঘটনাটি বর্তমান সময়ে মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে যে গভীর বিভাজন তৈরি হয়েছে, তার একটি বাস্তব প্রতিফলন। একজন সাবেক সামরিক সদস্যের এই ধরণের সরাসরি প্রতিবাদ বাইডেন প্রশাসনের বৈদেশিক নীতির ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।








