
ঢাকা, ৫ মার্চ ২০২৬ | নিজস্ব প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, এই চুক্তি স্বাক্ষরের আগে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল— বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের সাথে আলোচনা করা হয়েছিল এবং তাদের পক্ষ থেকে এতে ‘সম্মতি’ ছিল।
বুধবার (৪ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মার্কিন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
চুক্তিটি হঠাৎ করে হয়নি
চুক্তিটি নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তড়িঘড়ি করে সই করা হয়েছে—এমন সমালোচনার জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এটি কোনো গোপন বা অন্ধকারাচ্ছন্ন চুক্তি নয়। প্রায় এক বছর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই আলোচনার সূত্রপাত। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিরা নির্বাচনের আগেই প্রধান দুই দলের সাথে কথা বলেছেন এবং তারা একমত হয়েছিলেন।”
চুক্তির মূল বিষয়সমূহ একনজরে
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও সুবিধা রয়েছে:
- শুল্ক হ্রাস: বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে।
- সুবিধা: মার্কিন তুলা বা তন্তু (Cotton/Fiber) ব্যবহার করে তৈরি করা পোশাকের ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে।
- আমদানি প্রতিশ্রুতি: আগামী ১৫ বছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি এবং ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষি পণ্য (যেমন: গম, সয়াবিন) আমদানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
- অ-শুল্ক বাধা দূর: বাংলাদেশে মার্কিন যানবাহন এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রবেশ সহজ করতে মার্কিন মানদণ্ড (FDA/Safety standards) গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সংশোধনের সুযোগ থাকছে
একই দিন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এক সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, এই চুক্তিটি কোনো অপরিবর্তনীয় বিষয় নয়। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় স্বার্থে প্রয়োজনে এই চুক্তিতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে। এটি একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা।”
বিশ্লেষকদের উদ্বেগ ও সরকারের অবস্থান
চুক্তিটি নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ একে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর প্রভাব হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে পোশাক শিল্পের জন্য বড় ধরনের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে দেখছেন। তবে সরকার বলছে, মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে এই চুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।








