
নিজস্ব প্রতিবেদন || জাতীয়, ২ মার্চ ২০২৬
সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কে ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার চেষ্টার ঘটনাটি কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের এক চরম বহিঃপ্রকাশ।
গতকাল ১ মার্চ, শনিবার। ছুটির দিনে মানুষ যখন প্রকৃতির সান্নিধ্যে একটু প্রশান্তি খুঁজতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কে ভিড় জমিয়েছিলেন, ঠিক তখনই সেখানে রচিত হচ্ছিল এক নারকীয় অধ্যায়। মাত্র ৭ বছরের এক অবুঝ শিশুকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত পৈশাচিক কায়দায় গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সমাজ হিসেবে আমরা কতটা অনিরাপদ এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।
একটি শিশু, যার পৃথিবী হওয়ার কথা ছিল খেলাধুলা আর আনন্দের, তাকে যে বর্বরোচিত নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে—তা বর্ণনা করার ভাষা আমাদের নেই। প্রকৃতির কোলের মতো একটি নিরাপদ স্থানে এমন ঘটনা ঘটা প্রমাণ করে যে, অপরাধীদের মনে আইনের শাসন বা মানবিক মূল্যবোধের বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা নেই। এই ঘটনা কেবল একটি পরিবারের স্বপ্ন চুরমার করেনি, বরং পুরো জাতির বিবেককে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
আমরা প্রায়ই উন্নয়নের গল্প শুনি, কিন্তু যে সমাজে আমাদের কন্যারা নিরাপদ নয়, সেই উন্নয়নের সার্থকতা কোথায়?
পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মতো জনাকীর্ণ স্থানে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তবে সাধারণ মানুষের যাওয়ার জায়গা কোথায়?
একজন মানুষের ভেতরে কতটা পশুত্ব থাকলে একটি শিশুকে এভাবে নির্যাতন করতে পারে, তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়।
অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের অপরাধের বিচার বিলম্বিত হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সাহস পায়।
আমাদের দাবি ও করণীয়
আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছি। কোনো সভ্য সমাজে এমন পাশবিকতা মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের দাবিগুলো স্পষ্ট:
* দ্রুত বিচার: অপরাধীকে অবিলম্বে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
* পর্যটন কেন্দ্রে নিরাপত্তা: ইকোপার্কসহ প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করতে হবে।
* সামাজিক প্রতিরোধ: কেবল আইন দিয়ে নয়, পাড়ায়-মহল্লায় এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
“একটি শিশুর ওপর হামলা মানে পুরো ভবিষ্যতের ওপর হামলা। এই নৃশংসতার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের নীরব থাকা অপরাধ।”
সীতাকুণ্ডের এই ঘটনা আমাদের আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, মানবিক মূল্যবোধ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আমরা ওই নিষ্পাপ শিশুর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি এবং রাষ্ট্রের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—এমন বিচার করা হোক যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নরপিশাচ এ ধরনের সাহস না পায়।
আসুন, আমরা যে যার অবস্থান থেকে এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হই।








