
দেশজুড়ে আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে লোডশেডিং। চলমান বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদিন ৮–৯ ঘণ্টা, কোথাও কোথাও ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি, পাশাপাশি শিল্প, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
আরও পড়ুন:
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বাইরে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি বেশি গুরুতর। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চাহিদার অর্ধেকেরও কম থাকায় বাধ্য হয়ে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
রংপুর, সিলেট, খুলনা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দিনে ৭–১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। কোথাও কোথাও দিনে ১০–১২ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলে প্রতি ১–২ ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, জ্বালানি আমদানি সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিলের কারণে উৎপাদন কমে গেছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও গভীর হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং সাধারণ মানুষ অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্যে দিন পার করছেন।
আরও পড়ুন:
সরকারি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধি এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু হওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির আশা করা হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে লোডশেডিং কমার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।






