
রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতেই আলুক্ষেতে পানি জমে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। হঠাত এই বৃষ্টিতে আলুর ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিচু এলাকার জমিগুলোতে পানি জমে থাকায় আলুতে পচন ধরার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে চাষিদের মধ্যে।
মাঠের পরিস্থিতি ও কৃষকদের উদ্বেগ
আরও পড়ুন:
সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুর সদর, মিঠাপুকুর, পীরগাছা এবং নীলফামারী ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আলুর জমিগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। অনেক জমিতে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় পরিপক্ক আলু তুলতে পারছেন না কৃষকরা। যারা আগাম জাতের আলু রোপণ করেছিলেন, তারা কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও সাধারণ আলুচাষিরা পড়েছেন মহাসঙ্কটে।
চাষিদের মতে, এই সময়ে আলু উত্তোলনের ভরা মৌসুম। এখন জমিতে পানি জমে থাকার অর্থ হলো আলুর মান নষ্ট হওয়া এবং দ্রুত পচন ধরা। মিঠাপুকুরের এক আলুচাষি আক্ষেপ করে বলেন, “অনেক কষ্ট করে টাকা ধার নিয়ে আলু চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছিল, কিন্তু এই এক বৃষ্টিতে সব শেষ হওয়ার পথে। জমি থেকে এখন আলু তোলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
কৃষি বিভাগের পরামর্শ
আরও পড়ুন:
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, জমিতে পানি জমে থাকলে ছত্রাকের আক্রমণ বাড়তে পারে এবং ‘লেট ব্লাইট’ বা নাবি ধসা রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের দ্রুত জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যেসব আলু তোলার উপযোগী হয়েছে, আবহাওয়া একটু অনুকূলে আসলেই সেগুলো দ্রুত তুলে ফেলার নির্দেশনা দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
বাজার ও অর্থনীতিতে প্রভাব
আরও পড়ুন:
রংপুর বিভাগ দেশের অন্যতম প্রধান আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল। এখান থেকে উৎপাদিত আলু সারা দেশের চাহিদা মেটায়। যদি বৃষ্টির কারণে আলুর বড় ধরনের ক্ষতি হয়, তবে বাজারে আলুর দাম চড়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে যেমন কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তেমনি সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও প্রভাব পড়বে।
বর্তমানে অনেক কৃষককে দেখা যাচ্ছে কাদা-পানি মাড়িয়ে জমি থেকে অপরিপক্ক আলু তুলে ফেলার চেষ্টা করছেন, যাতে অন্তত বিনিয়োগের কিছু অংশ তোলা সম্ভব হয়।








