
বাংলাদেশ সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির নিরাপদ, নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় AI নীতি ২০২৬–২০৩০ (খসড়া) প্রকাশ করে জনমত আহ্বান করা হয়েছে, যা দেশের প্রযুক্তি খাতকে একটি সুসংগঠিত কাঠামোর মধ্যে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ (ICT Division) প্রণীত এই নীতিমালায় AI ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডেটা সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, এবং নৈতিকতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের Personal Data Protection Ordinance-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারে সম্মতি ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত নীতিতে বলা হয়েছে, AI প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকি—যেমন তথ্য অপব্যবহার, অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত, এবং নজরদারি—নিয়ন্ত্রণে সরকার একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তুলবে। এই নীতির মাধ্যমে ডেটা গভর্ন্যান্স, সাইবার নিরাপত্তা ও AI ব্যবস্থাপনাকে একটি একীভূত কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
আরও পড়ুন:
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্যোগ “স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১” ভিশনের অংশ, যেখানে AI প্রযুক্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনসেবার মানোন্নয়নে ব্যবহার করা হবে।
এর আগে ২০২৫ সালে প্রকাশিত AI Readiness Assessment Report-এও বাংলাদেশে একটি মানবকেন্দ্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নৈতিক AI ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশে AI খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, পাশাপাশি প্রযুক্তির অপব্যবহার কমে আসবে। তবে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কার্যকর তদারকি।








