
পাকিস্তানি নাগরিক আফিয়া সিদ্দিকী-কে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ২০০৩ সালে তার নিখোঁজ হওয়া, পরবর্তীতে আফগানিস্তানে গ্রেপ্তার এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিচার—সব মিলিয়ে ঘটনাটি মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ২০০৩ সালে করাচি থেকে আফিয়া সিদ্দিকী ও তার সন্তানদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তার পরিবার ও কিছু মানবাধিকার সংগঠন দাবি করে, তাকে পাকিস্তানি ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গোপনে আটক করেছিল। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন দাবি স্বীকার করা হয়নি।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আফগানিস্তানের গজনিতে তাকে আটক করা হয় বলে জানায় মার্কিন কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মার্কিন সেনা ও কর্মকর্তাদের ওপর গুলি চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। এ ঘটনায় তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে বিচার করা হয়।
আরও পড়ুন:
২০১০ সালে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত তাকে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ৮৬ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের Carswell Federal Medical Center-এ বন্দী রয়েছেন।
এদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং পাকিস্তানের একটি অংশের জনগণ দাবি করে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ এবং তিনি দীর্ঘদিন গোপন আটক ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র সরকার অস্বীকার করে আসছে।
আরও পড়ুন:
পাকিস্তানি সাংবাদিক মেহরীন সিবতাইন সম্প্রতি এক মন্তব্যে বলেন, “ড. আফিয়া সিদ্দিকী কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি আমাদের জাতীয় মর্যাদার একটি ক্ষত।” তার এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আফিয়া সিদ্দিকীর বিষয়টি একদিকে যেমন মানবাধিকার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে, অন্যদিকে এটি সন্ত্রাসবিরোধী বৈশ্বিক অভিযানের বিতর্কিত দিকগুলোকেও উন্মোচন করে।








