
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’-এর সময় পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা Inter-Services Intelligence (ISI)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের Central Intelligence Agency (CIA)-এর কাছে হস্তান্তরের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করত।
আরও পড়ুন:
পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট Pervez Musharraf তার আত্মজীবনী In the Line of Fire বইয়ে উল্লেখ করেন, পাকিস্তান শতাধিক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয় এবং এর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা পায়। তিনি দাবি করেন, এসব অভিযানে পাকিস্তান প্রায় কোটি কোটি ডলার অর্জন করে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
তবে মানবাধিকার সংস্থা Amnesty International এবং Human Rights Watch-এর বিভিন্ন প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় অনেক নিরপরাধ মানুষও গ্রেপ্তার ও হস্তান্তরের শিকার হন। এসব সংস্থা বলছে, অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ প্রমাণ ছাড়াই ব্যক্তিদের “সন্ত্রাসী” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী রিপোর্টেও উঠে এসেছে যে, ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তথাকথিত “বাউন্টি প্রোগ্রাম” চালু ছিল, যেখানে সন্দেহভাজনদের ধরিয়ে দিলে অর্থ পুরস্কার দেওয়া হতো। সমালোচকদের মতে, এই ব্যবস্থার কারণে কিছু ক্ষেত্রে ভুল তথ্য বা ব্যক্তিগত স্বার্থে নিরপরাধ লোকদেরও আটক করে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সব অভিযোগ সরাসরি স্বীকার করা হয়নি। দেশটির কর্মকর্তারা বরাবরই দাবি করেছেন, তারা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০০১ সালের পরবর্তী ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে কাজ করলেও, বন্দি হস্তান্তর ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আজও বিতর্কিত একটি অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।








