
কল্পনা করুন, ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিজের শহরেই হাঁটছে, কিন্তু তাকে প্রতি পদে থাকতে হচ্ছে সশস্ত্র প্রহরীদের আতঙ্কে। ফিলিস্তিনের অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের অলিগলি এখন এমনই এক বিভীষিকার নাম। সম্প্রতি বেশ কিছু প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শুধুমাত্র ইহুদি বসতি বা সংরক্ষিত এলাকার কাছাকাছি হাঁটার অপরাধে ফিলিস্তিনি কিশোরদের ওপর চড়াও হচ্ছে সশস্ত্র ইসরায়েলি বাহিনী।
আরও পড়ুন:
ভুল পথে পা রাখাই কি অপরাধ?
জেরুজালেমের বর্তমান মানচিত্রটি চেকপয়েন্ট এবং বিভাজন রেখা দিয়ে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে, একজন স্থানীয় ফিলিস্তিনি কিশোরের পক্ষে সবসময় সঠিক সীমানা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অনেক সময় কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই কিশোরদের ঘিরে ধরে হেনস্তা, মারধর বা আটকের মতো ঘটনা ঘটছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই ধরণের আচরণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি পরিকল্পিত ভীতি প্রদর্শনের অংশ। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শিশুদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও, জেরুজালেমে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
“১৪ বছরের একটি কিশোরকে সশস্ত্র সৈনিকরা ঘিরে ধরে মারধর করছে—এটি কেবল কোনো রাজনৈতিক সংঘাত নয়, বরং চরম মানবিক অবক্ষয়।”
একটি প্রজন্মের মানসিক ট্রমা
জেরুজালেমের এই কিশোররা এমন এক পরিবেশে বড় হচ্ছে যেখানে তাদের সাধারণ চলাফেরাও নিয়ন্ত্রিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শৈশবে এই ধরণের নিষ্ঠুরতার শিকার হওয়া কিশোররা দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ট্রমার সম্মুখীন হচ্ছে, যা পুরো প্রজন্মের ভবিষ্যতের ওপর কালো ছায়া ফেলছে।
আরও পড়ুন:
জেরুজালেম এখন কেবল এক পবিত্র শহর নয়, বরং এক অসম যুদ্ধের রণক্ষেত্র। যেখানে ১৪ বছরের একটি কিশোরকে তার নিজ শহরেই ‘পরদেশী’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে এবং সামান্য অজুহাতে তাদের ওপর চালানো হচ্ছে অমানবিক নির্যাতন।








