
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যেন থামছেই না। চলমান ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মধ্যে ইরান আজ ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে দুই দফায় মিসাইল হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, এই হামলায় হাইফা শহরসহ কয়েকটি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার সময়সীমা আরও ১০ দিন পিছিয়ে দিয়েছেন বলে ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও সামগ্রিক উত্তেজনার কারণে দাম এখনও উচ্চমূল্যে রয়েছে।
আরও পড়ুন:
ইরানের এই হামলা চলমান যুদ্ধের নতুন অধ্যায়। ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণের জবাবে ইরান বারবার মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। আজকের দুই দফা হামলায় ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যা ইসরায়েলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলেছে। হাইফা বন্দরের কাছে একটি তেল শোধনাগারের আশেপাশে মিসাইল আঘাত হানায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ মিসাইল ধ্বংস করলেও কিছু ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়নি।
আরও পড়ুন:
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে ‘উৎপাদনশীল আলোচনা’ চলছে বলে ইরানের জ্বালানি স্থাপনা ও পাওয়ার প্ল্যান্টে হামলার সময়সীমা ১০ দিন বাড়িয়ে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি ৫ দিনের পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে অনেকে যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনও পূর্ণ শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
এই ঘোষণার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। ট্রাম্পের প্রথম পিছিয়ে দেওয়ার খবরে তেলের দাম কিছুটা কমলেও চলমান যুদ্ধের কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখনও ১০৭ থেকে ১১০ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্ট্রেইট অব হরমুজের মাধ্যমে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এখনও রয়েছে বলে দাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে।
আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। ইরানের পক্ষ থেকে আরও প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন আশা করছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির পথ প্রশস্ত করবে।
(আপডেট: খবরটি সর্বশেষ তথ্য অনুসারে লেখা। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে।)








