
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতির বিরুদ্ধে শনিবার (২৮ মার্চ) ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় দফায় রেকর্ডসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। আয়োজকদের দাবি অনুসারে, দেশের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ৩০০টিরও বেশি সমাবেশে অংশ নিয়েছে প্রায় ৮০ লাখ থেকে ৯০ লাখ মানুষ। এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একদিনে সবচেয়ে বড় গণ-প্রতিবাদ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
আন্দোলনকারীরা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) অভিযানে নাগরিকদের গুলিবিদ্ধ হওয়া, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং কর্তৃত্ববাদী পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মিনেসোটার সেন্ট পল-এর স্টেট ক্যাপিটলে সবচেয়ে বড় সমাবেশ হয়েছে, যেখানে গায়ক ব্রুস স্প্রিংস্টিনসহ বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব বক্তব্য রাখেন। নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো, ফিলাডেলফিয়া ও ওয়াশিংটন ডিসিতেও লাখো মানুষের ঢল নেমেছে।
আরও পড়ুন:
আয়োজক সংগঠন ইন্ডিভিজিবল ও ৫০৫০১-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের বিক্ষোভ আগের দুই দফার চেয়ে অনেক বড়। গত বছর জুন ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত ‘নো কিংস’ কর্মসূচিতে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল। এবার শুধু বড় শহর নয়, ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আন্দোলনকারীরা ‘আইস আউট নাউ’, ‘নো ওয়ার ইন ইরান’ এবং ‘ট্রাম্প নয়, গণতন্ত্র’ স্লোগান দিয়ে রাস্তা প্রকম্পিত করেন।
প্রতিবাদের পটভূমিতে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি বিতর্কিত পদক্ষেপ। বিশেষ করে আইসিই অভিযানে মিনেসোটায় রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেটির মতো নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনা ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। একইসঙ্গে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ আমেরিকানরা ক্ষুব্ধ। আয়োজক সারাহ পার্কার বলেন, “আমেরিকানরা ক্ষুব্ধ। একদিকে যুদ্ধ, অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। এই প্রতিবাদ শুধু রাস্তায় নয়, এটি গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই।”
আরও পড়ুন:
বিক্ষোভ মূলত শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে ডালাস ও লস অ্যাঞ্জেলেসে কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সামান্য সংঘর্ষ হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই আন্দোলন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর জনমত গড়ে তোলার অংশ।
এদিকে বিশ্বের আরও ১২টিরও বেশি দেশে—প্যারিস, বার্লিন, টোকিও, সিডনিসহ—সমর্থনমূলক বিক্ষোভ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রপন্থী সংগঠনগুলো বলছে, এই প্রতিবাদ দেখিয়ে দিয়েছে যে ট্রাম্পের ‘রাজা’সুলভ আচরণের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ অটুট রয়েছে।
(সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, উইকিপিডিয়া ও আয়োজকদের বক্তব্য)








