
লিবিয়ার তোবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা দেওয়া একটি রাবার নৌকায় ছয় দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি নাগরিক। নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার ১০ জন যুবক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ২১ জন বাংলাদেশিসহ মোট ২৬ জনকে গ্রিসের কোস্টগার্ড উদ্ধার করেছে।
আরও পড়ুন:
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানান, লিবিয়ার ‘গেম ঘর’ থেকে ২১ মার্চ নৌকাটি গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। ছয় দিন পর শুক্রবার ক্রিট দ্বীপের ইয়েরাপেত্রা থেকে ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার জাহাজ তাদের উদ্ধার করে। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বর্ণনায় জানা গেছে, নৌকায় মোট ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি। দালালদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বড় নৌকায় তোলার কথা বলে শেষ মুহূর্তে তাদের ছোট রাবার নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। কোনো জিপিএস বা যোগাযোগের যন্ত্র দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন:
বেঁচে ফেরা এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বলেন, “খাবার ও পানি শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রতিকূল আবহাওয়ায় নৌকা দিক হারিয়ে ফেলে। একপর্যায়ে মানবপাচারকারীর নির্দেশে মৃতদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।” গ্রিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই দক্ষিণ সুদানি নাগরিককে (১৯ ও ২২ বছর বয়সী) পাচারকারী সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ প্রবেশ’ ও ‘অবহেলাজনিত হত্যা’র অভিযোগে তদন্ত চলছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান, নিহত ১০ জনের মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন, দিরাই উপজেলার ৪ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন। তাদের কয়েকজনের নাম প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হয়েছে— যেমন দিরাইয়ের তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), সাহান মিয়া (২৫) এবং মুজিবুর রহমান (৩৮)। প্রত্যেকে দালালদের কাছে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
আরও পড়ুন:
পরিবারগুলোতে এখন শোকের মাতম। স্বজনরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ মিশন গ্রিসের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আইওএমের সহায়তায় বেঁচে যাওয়াদের সহযোগিতা এবং নিহতদের মরদেহ ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও সতর্ক করেন, “অবৈধ পথে যাওয়া মানুষের জীবনকে টাকার সঙ্গে তুলনা করা যায় না। দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনা আবারও অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি তুলে ধরেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, চলতি বছর ভূমধ্যসাগরে শতাধিক অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। সরকার বারবার সতর্ক করছে— বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে।








