
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর এক মাস পূর্ণ হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। হুথি বিদ্রোহীরা ইরানের পক্ষে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, তেহরানে চলছে ভারী বোমাবর্ষণ, সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় ১২-১৫ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। ইরান হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি প্রস্তাব দিলেও ইসরায়েল আরও তীব্র হামলার হুমকি দিয়েছে। এদিকে পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর ও সৌদি আরব যুদ্ধ থামানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে।
আরও পড়ুন:
যুদ্ধের এক মাসে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ও তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে একের পর এক হামলা চালিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক হামলায় সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে, যেখানে মার্কিন সেনারা মোতায়েন ছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতে ১২ থেকে ১৫ জন সেনা আহত হয়েছেন, দুইজনের অবস্থা গুরুতর।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা প্রথমবারের মতো যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়ে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, এসব হামলা আটকে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এতে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
আরও পড়ুন:
সবচেয়ে বড় ধাক্কা হলো হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে যায়। ইরান এটি কার্যত বন্ধ করে দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ ছাড়া অন্যদের জন্য টোল দিয়ে প্রণালী পার হতে হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছে ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন সীমিত করা ও প্রণালী খুলে দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং ইরান ‘চুক্তির জন্য ভিক্ষা’ করছে। কিন্তু ইরান এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব শর্ত দিয়েছে—যুদ্ধ বন্ধ, ক্ষতিপূরণ ও প্রণালীর উপর সার্বভৌমত্বের নিশ্চয়তা। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলা ‘আরও তীব্র ও বিস্তৃত’ হবে।
আরও পড়ুন:
এদিকে যুদ্ধ থামানোর জন্য আঞ্চলিক শক্তিগুলো সক্রিয় হয়েছে। পাকিস্তান আজ রোববার পাকিস্তানে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক আয়োজন করছে। পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধ যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে। ইরানের ভেতরে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন শান্তি আলোচনার দিকে নজর রাখছে। তবে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, তা এখনো অনিশ্চিত।
(সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে)








