
লিবিয়ার তবরুক বন্দর থেকে ২১ মার্চ ২০২৬ তারিখে রাবারের নৌকায় (স্থানীয়ভাবে ‘গেম বোট’ নামে পরিচিত) করে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিলেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। ছয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর খাবার, পানি ও চরম আবহাওয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। গ্রিক কোস্টগার্ড ও ফ্রনটেক্সের উদ্ধারকারী জাহাজের সদস্যরা ক্রিট দ্বীপের কাছে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। কিন্তু তার আগেই ২২ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি। মানবপাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেয়া হয় বলে বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে যাওয়া তরুণদের মধ্যে অন্তত ১০ জন এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের খবর অনুসারে, জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন, দিরাই উপজেলার চারজন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন নুরুজ্জামান সরদার ময়না, সাজিদুর রহমান, সাহান এহিয়া, মুজিবুর রহমান, সোহানুর রহমান, আমিনুর রহমান, শায়েক আহমেদ, মো. নাঈম, মো. আলী ও আবু ফাহিমসহ অন্যরা।
আরও পড়ুন:
বেঁচে যাওয়া একজন সুনামগঞ্জের রোহান আহমেদ (২৫) ফোনে গ্রামের লোকজনকে জানিয়েছেন, “নৌকায় খাবার-পানি শেষ হয়ে যাওয়ায় সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। একে একে অনেকে মারা যায়। পাচারকারীরা লাশ সাগরে ফেলে দিতে বলে।” আরেকজন হবিগঞ্জের বাসিন্দা বেঁচে যাওয়া যাত্রীও একই কথা বলেছেন। গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের হেরাক্লিয়ন হাসপাতালে দুজনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বাকিরা ক্যাম্পে রয়েছেন।
আরও পড়ুন:
পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ দূতাবাস গ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। সুনামগঞ্জের ডিসি ডা. মো. ইলিয়াস মিয়া বলেন, “অবৈল চ্যানেলে যাওয়ায় কোনো অফিসিয়াল রেকর্ড নেই। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার শনাক্ত করতে। মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
সুনামগঞ্জে ইতোমধ্যে মানবপাচারের দায়ে মামলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পাচারকারী চক্রের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে।
আরও পড়ুন:
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, অবৈধ পথে ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন বাংলাদেশি তরুণদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। প্রতি বছর শত শত বাংলাদেশি এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় প্রাণ হারান। সরকার ও সচেতন মহলের দাবি—মানবপাচার রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো জরুরি।








